Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বিভাগীয় / ঢাকা বিভাগ / ঢাকা / সরকার এখন ‘চোরাবালির গভীরে চলে গেছে’ : নজরুল ইসলাম খান
সরকার এখন ‘চোরাবালির গভীরে চলে গেছে’ : নজরুল ইসলাম খান

সরকার এখন ‘চোরাবালির গভীরে চলে গেছে’ : নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে সরকার ‘চোরাবালির গভীরে চলে গেছে’।

আজ সোমবার দুপুরে এক সভায় তিনি বলেন, ‘এই সরকার এখন চোরাবালিতে পড়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া জনগণ পছন্দ করেনি, তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া জনগণ আরো অপছন্দ করেছে। একজন নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে ডিভিশন দেয়া হলো না, তিনদিন তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হলো- জনগণ পছন্দ করে নাই। সরকার এই চোরাবালিতে আরো কিছুটা নিচে নেমেছে। এখন তাই জামিনে বাধা দিয়ে তাকে জেলে থাকতে বাধ্য করে তারা (সরকার) চোরাবালির আরো গভীরে গেছে।’
ADD SB single_page_ad
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে নতি লাগতাছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন আদালত কী মনে করেন এটা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নাই। তারা যেটা ভালো মনে করেন, বলবেন আর কী। তবে নথি পাঠানোর জন্য আবার ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। এই ১৫ দিনের মধ্যে নথি নিশ্চয় আসবে। ১৫ দিনের মধ্যে, মানে কিন্তু ১৫ দিন না। কালকেও হতে পারে। তারপরও আমরা আশা করবো, যত দ্রুত সেই নথি তাদের (নিম্ন আদালত) পাঠানোর কথা তারা পাঠাবেন। তার ভিত্তিতে আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেবেন এবং তিনি আমাদের মাঝে থাকবেন এবং তার নির্দেশে দল চলবে।’

প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করছেন কে? এটর্নি জেনারেল। তিনি আওয়ামী লীগের আইনজীবী নন, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তার বেতন হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যিনি আইনজীবী, তিনিও আওয়ামী লীগের আইনজীবী নন। দুদুক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, তার বেতনও জনগণের টাকায় হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তো ১৫টি মামলা ছিলো যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তার ৬টা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব কোনো বিরোধিতা তো করেন নাই। তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৯টা মামলা ছিলো। এই ৯টার মধ্যে সম্ভবত ২০১০ সালে তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টের দুইটা বেঞ্চে খারিজ করে দেয়া হয়েছে। কোথায় ছিলেন তখন অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব, কোথায় ছিলেন দুদকের আইনজীবী সাহেবেরা? বিরোধিতা তো করেননি।’

তিনি বলেন, আপনাদের দেয়া চার্জশিটে নিম্ন আদালতে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিলো সেসব মামলা। সেই মামলা খারিজ করে দেয়া হলো- কোথায়, তার বিরুদ্ধে তো আপীল করলে না। আজকে আগেই বলে দেন খালেদা জিয়ার জামিন হলেও আপনারা তার বিরুদ্ধে আপীল করবেন। আপনারা কী আওয়ামী লীগের আইনজীবী? আপনারা তো রাষ্ট্রের আইনজীবী। আপনাদের তো দায়িত্ব পালনের এটা ধরণ থাকবে। কারো জন্য একরকম, কারো জন্য আরেক রকম- এটা তো রাষ্ট্রের কারো আচরণ হওয়ার কথা নয়।’

২০০৭ সালে প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগে আওয়ামী লীগের বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ১০৮০-৮১ সালে যুক্ত ছিলেন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান সাহেব। আমি তখন পার্টির লেবার সেক্রেটারি এবং উনি (কে এম হাসান) আমাদের পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব তাকে ইরাকের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করলেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে, উনি ফিরে আসার পর আর কখনো বিএনপির কোনো কর্মকান্ডে যুক্ত হন নাই, ৮০ সালের পরে কখনো বিএনপি কোনো কর্মকান্ডে যুক্ত হন নাই। ২০০৬ সালে এসে ২৬ বছর পরে আপনারা (আওয়ামী লীগ) বলেন, উনি (কে এম হাসান) বিএনপির লোক ছিলেন, উনার নেতৃত্বে কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে পারে না। আমরা কী বলব? কয়েকবছর আগে যিনি আপনাদের দলের গোপালগঞ্জের জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাকে বিচারপতি বানিয়ে তার বেঞ্চেই মামলগুলো নিয়ে প্রত্যাহার করে নিলেন আপনারা। মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এখন সাধু সেজে গেছেন তারা।’

দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)-এর উদ্যোগে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই নার্সেস সভা হয়।

সরকারের ‘ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের’ বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হবার আহবান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশবাসী অনেক সচেতন। আমি বিশ্বাস করি, যদি তারা ভোট দেবার সুযোগ পায় তাহলে দুর্নীতি ও অনাচার-নির্যাতন-জুলুমের বিরুদ্ধে রায় দেবে।

সংগঠনের সভাপতি জাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ঢাকা / ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/রবিবার / ১৪:১৩

Add SB24-1

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.