Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ইসলাম / কে এই সাদ, কেন তাকে নিয়ে এত আলোড়ন?
কে এই সাদ, কেন তাকে নিয়ে এত আলোড়ন?

কে এই সাদ, কেন তাকে নিয়ে এত আলোড়ন?

সবুজবাংলা ডেস্ক,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে আজ। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে আলেম উলামা ও তাবলিগের অনেক সাথীর মতামত উপো করে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা সাদ কান্ধলভি এবারের ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না। গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আলেম উলামা ও তাবলিগের শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, মাওলানা সাদ আমাদের কাছে একজন বিদেশী মেহমান। তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু আমরা করতে পারি না। তিনি সসম্মানেই কাকরাইলে এসেছেন এবং সেখান থেকেই বিদায় গ্রহণ করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাওলানা সাদ ইজতেমা মাঠে যাবেন না। ইজতেমা চলাকালীন তিনি কাকরাইল মসজিদে থাকবেন, পরে সুবিধাজনক সময়ে দেশে ফিরে যাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাওলানা সাদের বক্তব্য নিয়ে তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল। এ বৈঠকে দুইপরে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। উভয়প এ সমঝোতা প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার বিষয়ে সরকার কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি, এবারো করবে না। ইজতেমার নিরাপত্তায় সব ধরনের সহযোগিতা বরাবরের মতো এবারো দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, এ ইস্যুকে ঘিরে যারা রাস্তাঘাটে নেমেছিলেন আশা করছি তারাও আজ ফিরে যাবেন। আর মাওলানা সাদ যে মন্তব্য করেছেন তার যৌক্তিকতা নিয়ে আলেমরা নিজেরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই।

এ দিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আজ কাকরাইল মসজিদে জুমার নামাজের পর সংপ্তি মুনাজাত করে স্বাচ্ছন্দময় ফাইট অনুযায়ী মাওলানা সাদের দিল্লি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জে. জয়নাল আবেদিন, পুলিশের আইজিপি শহিদুল হক, র‌্যাব প্রধান বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে গুলশান জামে মসজিদের খতিব ও যাত্রাবাড়ী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেতৃত্ব দেন। এতে তাবলিগ জামাতের ১১ সদস্যের শূরা সদস্যের প্রায় সবাই অংশ নেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অন্তত দুইজন অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে। বৈঠকে বেফাকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা আশরাফ আলী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, গাজীপুরের কাপাসিয়ার দেওনা পীর সাহেব অধ্য মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা সাদের পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের শূরা সদস্য মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফ ইসলামের নেতৃত্বে তিনজন মুরব্বি।

আমাদের টঙ্গী সংবাদদাতা শেখ আজিজুল হক জানান, তাবলিগ জামাতের প্রবক্তা ইলিয়াস রহ:-এর প্রপৌত্র ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিশ্ব ইজতিমায় অংশ না নেয়ার খবরে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এরপরও দুইপরে মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কড়া নজরদারিতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এবার ইজতেমায় ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ল্য করা গেছে। এখনো সাদ সমর্থিত সাধারণ শিতিদের প্রভাবশালী একটি অংশ ইজতেমার বেশির ভাগ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের নেতৃত্বকে সহ্য করতে পারছেন না আলেমরা। সাধারণ মুসল্লিরাও চান নবী-রাসূলদের উত্তরসূরি হিসেবে ইসলাম ধর্মের ধারক ও বাহক আলেম সমাজ ইজতেমা তথা তাবলিগ জামাতের পুরো নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করুক। তাবলিগ জামাতের ভেতর আলেম নন এমন কিছু শূরা সদস্য সমর্থিত মাওলানা সাদ এবার ইজতেমায় অংশ নিলে রক্তয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে আলেমরা হুঁশিয়ার করেছেন। মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় এলে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও তারা মনে করেন।

এ দিকে অন্যান্য বার ইজতেমা ময়দানে যেভাবে নিরবচ্ছিন্ন প্যান্ডেল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ছিল এবার তা অনেকাংশেই অনুপস্থিত। ময়দানের বিভিন্নস্থানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ এবং ১৬০ একর আয়তনের সুবিশাল প্যান্ডেল বিভিন্ন স্থানে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় দেখা গেছে। সাদ কেন্দ্রিক গুমোট পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে তাবলিগের স্বেচ্ছাসেবীদের সংখ্যাও এবার অন্যান্য বারের চেয়ে কম। তবে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে সাদ কেন্দ্রিক গোলযোগের কোনো প্রভাব পড়েনি। আজ শুক্রবার বাদ ফজর আম (সার্বিক) বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইজতেমা অভিমুখী মুসল্লিদের ঢল ল্য করা গেছে। দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে ঢুকে নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পরপরই টঙ্গীর তুরাগ তীরে আসা শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তীব্র শীত উপো করে সওয়াব হাসিলের আশায় তাবলিগ জামাতের বড় এই আয়োজনে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ট্রাক, মিনি ট্রাক, প্রাইভেট কার, বাস ও সিএনজিতে করে আসা মুসল্লিরা নামছেন তুরাগ তীরে। শীতের পোশাক, তাঁবু ও অতিরিক্ত খাবার নিয়ে আসছেন তারা। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মরক্কো, সুদান, মিসর, ইরাক ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশের মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। এবার দশ সহস্রাধিক বিদেশী মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে আশা আয়োজকদের।
Add SB24-1
ইজতেমা ময়দানে বিদেশী তাঁবুতে ইস্তেকবালের (অভ্যর্থনা) দায়িত্বে নিয়োজিত তাবলিগের এক স্বেচ্ছাসেবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাবলিগ জামাত শীর্ষ মুরব্বিদের মাশুয়ারার (পরামর্শের) ভিত্তিতে চলে। এখানে কারোর কোনো একক নিয়ন্ত্রণ বা নেতৃত্ব নেই। তাবলিগ জামাত কোনো একক ব্যক্তিকে অনুসরণ করে না। একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর রাসূল সা:-কে অনুসরণ-অনুকরণ করে। মাওলানা সাদ নিজেকে তাবলিগ জামাতের আমির দাবি করে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার সাথে যোগ দিয়েছেন কিছু জেনারেল শিতি স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি। যারা তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমাকে পুঁজি করে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করছেন। ইজতেমার নামে দেশ-বিদেশ থেকে অনুদান এনে কুগিত করছেন। এরা ইতোমধ্যে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। অপর দিকে যারা আলেম তারা ব্যক্তি স্বার্থকে কখনো প্রাধান্য দেন না। তারা ওয়ারিসাতুল আম্বিয়া হিসেবে একনিষ্টভাবে দ্বীন প্রচারে নিয়োজিত। মাওলানা সাদ কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে বিদেশী মুসল্লিদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই বলেও জানান এই অভ্যর্থনাকারী।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমায় যানজট এড়াতে এরই মধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইজতেমা ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম পর্বে ইজতেমায় অংশ নেবেন ১৪ জেলার মুসল্লিরা।

ইজতেমা শুরুর আগেই ভারতের তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদের আগমনকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সাদ ইজতেমায় আসছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প থেকে দেয়া এমন খবরে স্বস্তি ফিরেছে মুসল্লিদের মধ্যে।
বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লি এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ও সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় র‌্যাবের প থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে দুই দফায় এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান যোগ দেবেন। বিশ্ব ইজতেমায় জল, স্থল ও আকাশ পথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে প ও বিপ গ্র“পের মধ্যে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি করছে বলেও তিনি জানান।

এক দিন আগেই ইজতেমা ময়দানে আসা আশরাফুল ইসলাম নামে এক মুসল্লি বলেন, ঈমান শক্ত করার জন্য তিনি এবারের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলেম উলামাদের বয়ান শুনবেন। আমল আকিদার শিা নেবেন।
কামারপাড়া রোডে কথা হয় মুসল্লি নেছারুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ইজতেমা ময়দানে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের নাজাতের আশায় এসেছি। ইজতেমার মুরব্বিরা দ্বীন ও আখেরাতের নাজাতের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ঈমান, আমল-আখলাকসহ ছয় উসুল নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বীনের দাওয়াতের আলোচনা হবে।
বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের জিম্মদার প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থা বা দফতরের নেয়া নানা পদপে সন্তোষজনক।

উল্লেখ্য, ইজতেমায় দিন দিন মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ইজতেমা ময়দানে জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার মাহফুজ নুরুজ্জামানের অনুরোধে তাবলিগ জামাত কর্তৃপ বিগত ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লিদের ৩২ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এই ৩২ জেলার মুসল্লিদের আবার ১৬ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি বছর ১৬ জেলা করে দুই ধাপে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন এই বিশ্ব ইজতেমায়। দুই ধাপে ইজতেমা অনুষ্ঠানের কারণে টঙ্গীতে মানুষের চাপ যেমন কমছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন অনেকটা সহজতর হয়েছে। এবারের দুই দফার ইজতেমার সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে তাবলিগ জামাত কর্র্তৃপ। সেই সাথে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ, দফতর, অধিদফতর ও সংস্থা ইজতেমা আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
আগামী ১৪ জানুয়ারি আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্ব। এবার প্রথম পর্বে অংশ নিচ্ছেন ঢাকা, পঞ্চগড়, নীলফামারী, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, নাটোর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, মাগুরা ও নোয়াখালী জেলার মুসল্লিরা। এসব মুসল্লি ময়দানে তাদের জন্য নির্ধারিত ২৮টি খিত্তায় অবস্থান করছেন। ৪ দিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ২১ জানুয়ারি আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

বিশ্ব ইজতেমা ইসলামী উম্মাহর ঐক্য জোরদারে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : রাষ্ট্রপতি
বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ‘বিশ্ব ইজতেমা ২০১৮’ উপলক্ষে ইজতেমায় আগত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমা ইসলামি উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ়করণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি গতকাল এক বাণীতে এ কথা বলেন। আজ শুক্রবার ‘বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে। ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানেরা অংশগ্রহণ করে থাকেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। ইসলামের সুমহান আদর্শ ও আকিদাকে অনুসরণের পাশাপাশি এর প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্ব ইজতেমা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ এক মহতী মিলনমেলা। ইজতেমা ইসলামের সুমহান আদর্শ জানা, বুঝা ও আমলের পথ সুগম করে।

মুসলিম বিশ্বের বিজ্ঞ আলেমদের বয়ান ও আলোচনা হতে ইসলামের বিধি-নিষেধ ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়, যা ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবন ও অনুসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ইসলামি উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ়করণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর সফলভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করে বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। এ জন্য তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো শুকরিয়া জানান। বিশ্ব ইজতেমা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে যাতে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করে সে প্রার্থনা করেন তিনি।
ADD SB single_page_ad
বিশ্ব ইজতেমা উপলে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা প্রধানমন্ত্রীর
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব ইজতেমা উপলে মহান আল্লাহর দরবারে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও কল্যাণ এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এ মহান ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখবে। দেশ ও বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে।’ প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমা উপলে গতকাল দেয়া এক বাণীতে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আজ শুক্রবার থেকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে শেখ হাসিনা মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা উপলে দেশবাসী এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে আমাদের লালিত অসাম্প্রদায়িক চেতনা, অকৃত্রিম সরলতা ও অতিথিপরায়ণতা এবং সহিষ্ণুতার আলোকবার্তা ইজতেমায় আগত বিদেশী মেহমানদের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাবে- এ আমার প্রত্যাশা।’

ঢাকার উপকণ্ঠে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে এই বিশ্ব ইজতেমা ইসলামের মর্মবাণী প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমা উপলে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।  নয়া দিগন্ত

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ঢাকা / ১২ জানুয়ারি ২০১৮/ শুক্রবার / ০০:১৫

nm Add-583X120-Time-120.Gift_

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.