Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বিভাগীয় / খুলনা বিভাগ / খুলনা / আন্তর্জাতিক আদালতে সূচি ও মায়ানমার সেনা প্রধানের বিচার করতে হবে : খুলনার জনসভায় চরমোনাই পীর
আন্তর্জাতিক আদালতে সূচি ও মায়ানমার সেনা প্রধানের বিচার করতে হবে : খুলনার জনসভায় চরমোনাই পীর

আন্তর্জাতিক আদালতে সূচি ও মায়ানমার সেনা প্রধানের বিচার করতে হবে : খুলনার জনসভায় চরমোনাই পীর

সবুজবাংলা২৪ডটকম (খুলনা) : আন্তর্জাতিক আদালতে সূচি ও মায়ানমার সেনা প্রধানের বিচার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

আজ মিয়ানমারে গণহত্যা,নারী ধর্ষন,শিশু হত্যা,বাড়ীঘরে অগ্নি সংযোগ ও আগুনে পুড়িয়ে মারারমত বর্বরতার মাধ্যমে জাতীগত নিধন ও দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতি-চাল,তেল,গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে নগর সভাপতি মাওঃ অধ্যক্ষ মুজ্জাম্মিল হক এর সভাপতিত্বে ও শেখ মোঃ নাছির উদ্দিন, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, মাওঃ ইমরান হুসাইন এর পরিচালনায় ডাকবাংলা সোনালী ব্যাংক চত্ত্বরে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের মুসলিম গণহত্যা বন্ধে মিযানমারের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা সহ সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনৈতিক অবরোধের অংশ হিসাবে মিয়ানমারের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে এবং মুসলিম বিশ^ কে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন মিয়ানমার জান্তা রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার মাধ্যমে রাখাইন রাজ্যকে মুসলিম শূণ্য করার খেলায় মেতে উঠেছে বর্মীজান্তা এবং অংসান সূচি এই গণহত্যার মাধ্যমে বিশ^ সন্ত্রাসী হিসাবে বিশ^বাসীর কাছে চিহ্নিত হয়েছে। রাখাইনের ইতিহাসে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ নির্মমতা এবং মানবতার ভুলুন্ঠিত হলেও জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এব্যপারে কোন কার্যকর ভূমিকা এখনো দৃশ্যমান নয়। এখন মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, সময় এসেছে আরাকান দখল করে বাংলাদেশের পতাকা উত্ত্বোলনের। তিনি রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে আগত ত্রান সুষ্ঠভাবে বিতরন নিয়ে যেন কোন দূর্নীতি না হয় এবং মহিলা সহ কাউকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়। সে ব্যপারে সরকারকে হুশিয়ার করে দেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা ও বর্বরতা বন্ধের প্রতিবাদে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। তারপরেও যদি বন্ধ না হয় প্রয়োজনে আবারও মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চ সহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

তিনি বলেন, রক্ত পিপাসু মায়ানমারের সেনা প্রধান ও অংসান সূচীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি জাতিসংঘকে কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সূচী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। তিনি বলেন রাখাইন রাজ্যের খনিজ সম্পদ লুটপাট করতে সম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর ইন্ধনে রহিঙ্গা মুসলমানদের উ্েচ্ছদ করছে। সূচী রক্ত পিপাসু দানব, তার বিচার হতেই হবে। তিনি আরো বলেন, ওরা আরো রক্ত চায়, আরো লাশ চায়, কাজেই রক্ত ও লাশের খেলা বন্ধ না হলে মিয়ানমার সরকার কে চরম মূল্য দিতে হবে।

চরমোনাই পীর বলেন, চাল,ডাল, চিনি, তেল গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন খুলনার ক্রীসেন্ট জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল সহ বাংলাদেশের সকল মিল কলকারখানার শ্রমিদের বকেয়া বেতন ভাতা দ্রুত পরিশোধ করার আহবান জানান -
সেই সাথে যে সকল মিল কল কারখানার বন্ধ করা হয়েছে তা অতি দ্রুত চালু করার দাবি জানান এবং সাথে সাথে শ্রমিকদের মজুরী কমিশন ও ন্যায্য অধিকার দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানান উক্ত জনসভায় চরমোনাই পীর বলেন বাংলাদেশে শুধু ক্ষমতার পালা বদল হচ্ছে কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই আসুন আগামী নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন তথা হাত পাখা প্রতিকে ভোট দিয়ে দেশ কে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠিত করে জালিমের জুলুম থেকে দেশ কে বাঁচাতে এ দেশের জনগন কে এগিয়ে আসতে হবে।

দলের নায়েবে আমির হাফেজ মাওঃ আব্দুল আউয়াল বলেন- সরকার জনগনের দুঃখ দুর্দশার কথা বেমালুম ভুলে গেছেন বলেই বার বার বলা সত্ত্বেও চাল,ডাল,লবন,মাছ, গোশত, গ্যাস, বিদ্যুৎ, তরিতরকারী ও মসলা সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির ফলে সিমিত আয়ের মধ্যবৃত্ত ও দরিদ্র লোকদের জীবন জাপন অত্যান্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার মূখে বড় কথা বললেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সরকার চালের দাম কমানোর কথা বললেও বাস্তবে চালের মূল্য ব্যপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির ফলে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগন।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন- স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের জনগন এখনো শান্তির মূখ দেখেনি কারন যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা সকলেই দূর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। অতএব, দেশ কে সুখি সমৃ্িদ্ধ ও উন্নায়নের চরম শিখরে পদার্পন করার জন্য ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। তাই জনগণ কে আগমী সকল নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে তথা হাত পাখা প্রতিকে সমর্থন দিতে হবে।

উক্ত জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- মাওঃ মুজাফ্ফার হোসেন, মাওঃ আবু সাইদ, মোঃ মুসা লষ্কর, মুফতী আমান উল্লাহ, জি,এম সজিব মোল্লা, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, মাও ঃ মজিবুর রহমান, ডাঃ আল-আমিন এহসান, মুফতী আব্দুর রহমান মিয়াজি, তরিকুল ইসলাম কাবির, মোঃ আব্দুর রশিদ, মোঃ রবিউল ইসলাম তুষার, এস,এম, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ আব্বাস আমিন, আলহাজ¦ শহিদুল ইসলাম, মোঃ হারুন অর রশিদ, জি,এম কিবরিয়া, মাওঃ দ্বীন ইসলাম, মোঃ হযরত আলী, আলহাজ¦ আবু তাহের, হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ জসিম উদ্দিন, মাওঃ মনিরুল ইসলাম, যুবনেতা মোঃ ইসমাইল হোসেন, ডাঃ মোঃ নাসির, মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, তৌহিদুল ইসলাম. এইচ,এম জুনাইদ মাহমুদ, ছাত্র নেতা মোঃ আমিরুল ইসলাম, মোঃ আব্বাস আলী, মোঃ হাসিব গোলজার, ইসাহাক ফরিদি, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল্লাহ নোমান প্রমুখ।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/খুলনা জেলা প্রতিনিধি / ২৪ অক্টোবর ২০১৭ /মঙ্গলবার/ ১৭:৪৫

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.