Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ছবি ঘর / বিএনপিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখার ক্ষমতা কারও নেই : শামসুজ্জামান দুদু
বিএনপিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখার ক্ষমতা কারও নেই : শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখার ক্ষমতা কারও নেই : শামসুজ্জামান দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) :  বিএনপি নির্বাচনে যাবেই মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘দেশের চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার দুটো পথ আছে। একটি নির্বাচন অন্যটি হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান। আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু আমাদের নির্বাচনে যেতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবু্ও নির্বাচনে আমরা যাবই, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনে যাবো। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলছি- কারও কোন ক্ষমতা নেই বিএনপিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখার। কারণ সামনের যে নির্বাচন এটা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন হবে না। এই নির্বাচন হবে গণনির্বাচন।’

শনিবার সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত “রোহিঙ্গা সঙ্কট : বন্ধু রাষ্ট্রের ভূমিকা ও প্রত্যাশা” শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশের সব কিছুর সমাধান হচ্ছে একটি পরিবর্তন। গণতন্ত্রের ,অর্থনৈতিক লুটপাটের, নির্মম হত্যা, অপহরণের যে সংকট, এই দেশটাকে রসাতলে নিয়ে যাওয়ার যে সংকট এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের একটি পরিবর্তন দরকার। সে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিবে বিএনপি। সেই দলের নেত্রী চিকিৎসা শেষে ৩ মাস পরে লন্ডন থেকে দেশে আসলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা যাতে তাঁকে অভ্যর্থনা দিতে না পারে তার জন্য বাস বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার, লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তাই সরকারকে বলবো লাইট বন্ধ করে লাভ কি? বেগম জিয়া তো অন্ধকারেও আলো, তিনি (খালেদা জিয়া) অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে দেখতে পায়।’

এসময় বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের একটিও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। পল্টনে দেয়া হয় না, সোহরাওয়ার্দীতে দেয়া হয় না এমনকি ঢাকার বাহিরে কোন বিভাগীয় শহরেও করতে দেয়া হয় না। যার কারণে গত ১৯ তারিখে জনগণ খুব সামান্য একটা সুযোগ পেয়ে এয়ারপোর্ট এলাকায় প্রিয় নেত্রীকে দেখতে মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। সেই অসুস্থ নেত্রীকে ২ দিন পরপর কোর্টে নিয়ে সরকার হয়রানি করছে। কিন্তু সরকার বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে এ বছর না হলেও আগামী বছর তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধান। এটা খুব স্বাভাবিক হিসেব। আওয়ামী লীগের জিততে হলে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী থাকতে হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের কোন ভবিষ্যৎ নাই। শেখ হাসিনা ছাড়া যে কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকলে বিএনপি জয়লাভ করবে।’

তিনি বলেন, ‘কথা বললে অনেক কথাই বলা যায়। বেগম খালেদা জিয়ার উপর যে অত্যাচার হচ্ছে এটা জাতির উপর অত্যাচার। কারণ তিনি ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, প্রতিবারই তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রাম করে এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাকে ঠেকানো আর জনস্রোত, গণজোয়ার ঠেকানো একই কথা।’

বাংলাদেশের সকল সংকটের মূল জায়গা বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) পদত্যাগ করা মাত্রই দেশে রোহিঙ্গা সংকট ও লুটপাটের সমাধান হবে, আইশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণের দাবি তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সকল সমস্যার সমাধান হোক।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বন্ধুহীন একটি দেশ। বাংলাদেশের কোন বন্ধু নাই। পাশের বাড়ির যে বন্ধুটা ছিল যাকে আমরা পরীক্ষিত বন্ধু বলি তিনিও এখন অন্যের হাত ধরে ফেলেছেন। কতই না তাদের খাওয়াইলাম, প্রেম ভালবাসা করলাম, কিন্তু বন্ধু আমাদের রোহিঙ্গা সংকটের সময় খুব দ্রুত মিয়ানমারের প্রধান রাষ্ট্রীয় পরামর্শ দাতা অং সান সু চির হাত ধরে ফেললেন। মোদী একটি সাম্প্রদায়িক দেশের নেতা। যারা তাজমহলও ভাঙতে চায়, তাঁর দেশে নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা করা হয়।’

সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভায় আরো আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বিএনপি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, ঢাকা মহানগর দক্ষিন সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধা, মো. ফরিদউদ্দিন, গণ সংস্কৃতি দলের সভাপতি এস.আল. মামুন, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মুহম্মদ মাহমুদুল হাসান, ঘুড়ে দাড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী,পল্টন থানা বিএনপি নেতা মুহিদ জামান রিও, সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন রনি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি রাসেল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ, যুগ্ম সাদারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ঢাকা / ২১ অক্টোবর ২০১৭ /শনিবার/ ১৩:৪১

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.