Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বিভাগীয় / খুলনা বিভাগ / শৈলকুপায় ওসির খুটির জোর কোথায়?
শৈলকুপায় ওসির খুটির জোর কোথায়?

শৈলকুপায় ওসির খুটির জোর কোথায়?

আতিকুর রহমান টুটুল,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বিনা মামলায় আটক করে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। আটকের পর দাবিকৃত অর্থ না দিলেই শারিরীক নির্যাতনের পর আদালতে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশের রোষানল থেকে বাদ পড়ছে না নিরীহ মানুষও। ওসি তরিকুল ইসলাম ও তার ‘পালিত পুত্র’ বলে পরিচিত সেকেন্ড অফিসার ইকবাল হোসেনের রামরাজত্বে অসহায় হয়ে পড়েছে শৈলকুপাবাসী।

এনিয়ে খোদ পুলিশ সদস্যদের মাঝেও চাপা ক্ষোভ রয়েছে। শৈলকুপা থানায় যোগদানের পর ওসি তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অর্ধশত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি হয়রানীর কয়েকটি ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শৈলকুপা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে দিন দিন। হামলা, পাল্টা হামলা, লুটপাট, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। ওসির যোগদানের পর ‘পোয়াবারো’ অবস্থা এখানকার মাদক ব্যবসায়ীদের। ২ জুন শৈলকুপার নাগিরাট গ্রামের রুহুল ওরফে লাল কুন্ডুকে মাদকের অভিযোগে গ্রেফতার করে।

তার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই থানা পুলিশ তাদের নিকট অনৈতিক টাকা দাবি করে আসছিল। টাকা না দেওয়ায় গ্রেফতার করে মাদক মামলা দিয়ে তাকে চালান দেওয়া হয়েছে। এর আগে রয়েড়া গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চয়নকে বহুদিন ধরে স্বর্ণালংকারের কারিগর হিসেবে শৈলকুপা বাজারে কাজ করে আসছে। অকারণে প্রায়ই তাকে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। তার নিকট থেকে গতমাসে ১০ হাজার টাকা আদায় করার পর পুলিশ ক্ষ্যান্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় সংখ্যালঘুদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে একটি সংখ্যালঘু পরিবারকে নির্যাতন করেছে সন্ত্রাসীরা।

ওই গ্রামের বিশ্বনাথ বাড়ৈ জানান, ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা ও সাংসারিক খরচ মিটানোর জন্য তারা ৩ ভাই ৩ লাখ টাকার জমি বিক্রি করেন। এ সংবাদ পেয়ে এলাকার সন্ত্রাসীরা ৮০ হাজার টাকা দাবি করে। চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা হুমকি দিতে থাকে। গত ২৮ মে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করে। এদিন রাতে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী বাড়িতে ঢুকে তার ভাই কাজল বাড়ৈ, শশধর বাড়ৈ ও ভাই বৌ সুনিতা বাড়ৈকে মারপিট করে। পরদিন সকালেও তাদের হাত পা কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলামের খুব আস্থাভাজন বলে শঙ্কিত ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনার পেছনে নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন নেতৃত্ব ওসি লাখ টাকা হামলাকারীদের পক্ষ নিয়েছে।শৈলকুপার মধ্যপাড়া গ্রামের নারায়ন কুমার সাহার পুত্র সঞ্জয় কুমার হত্যার কোন ক্লু আজও বের হয়নি।

এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ, ওসি তরিকুল ইসলাম আসামীদের সাথে সখ্যতা গড়ে মোটা অংকের বাণিজ্য করেছেন বলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ শ্রমিক সঞ্জয় হত্যার নেপথ্য কারণ ধামাচাপা পড়ে রয়েছে। ব্যক্তিগত ফার্ণিচার বানানোর জন্য ওসি তরিকুল ইসলাম কাতলাগাড়ী ওয়াবদা কলোনী থেকে পাউবো’র যোগসাজসে বিনা টেন্ডারে প্রভাব খাটিয়ে শতবর্ষী একটি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন।মির্জাপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামের দরবেশ আলী ও তার চাচা আবদুল লতিফকেও ভূয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে ২৯ মার্চ রাতে আটক করে পুলিশ। ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আবদুল লতিফকে ছাড়লেও টাকা না দেওয়ায় দরবেশকে শারিরীক নির্যাতনের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়।সম্প্রতি মাদক স¤্রাট বকুল জোর্য়াদ্দারের সাথে থানায় বসে গোপন বৈঠক করেন ওসি তরিকুল ইসলাম।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোড়পাড় সৃষ্টি হয়। উপজেলার শেখপাড়া, লাঙ্গলবাঁধ, কচুয়া, চড়িয়ালবিল হাটফাজিলপুর এলাকার মাদক কারবারিদের নিকট থেকে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

ওসির দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় কাতলাগাড়ী বাজার সংলগ্ন আজিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী প্রায় এক মাস বাড়ি ছাড়া। তিনিও জমাজমি সংক্রান্ত অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তার উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। আজিম উদ্দীনের অভিযোগ নিয়মিত টাকা না দেওয়ায় তাকে বাড়ি ছাড়াতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য বলেন, ওসির ‘পালিত পুত্র’ বলে পরিচিত থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থবাণিজ্য হয়ে থাকে।২০১৪ সালে মেহেরপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) থাকাকালে তরিকুল ইসলাম একটি চুরি মামলার বাদী মেহেরপুর শহরের ক্যাশবপাড়ার সাহেব আলীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে। সে সময় মেহেরপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী সাহেব আলী হাজির হয়ে ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলামের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনে জবানবন্দি দেন।

এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মতিয়ার রহমান বিষয়টি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেন। তবে সবকিছু টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেছেন বলে দাবি এ পুলিশ কর্মকর্তার কাছের মানুষদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি কনস্টেবল থেকে ওসি হয়েছি। সব দরজা আমার চেনাজানা, ম্যানেজ করার ক্ষমতাও আমার আছে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ভাই থানায় এসে চা খেয়ে যাবেন।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি/ ০৯ জুন ২০১৭ /শুক্রবার/ ১২: ১৫

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.