Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / আইন-আদালত / ওয়ান ইলেভেন: জরুরি অবস্থা জারিতে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্য করা হয়েছিল
ওয়ান ইলেভেন: জরুরি অবস্থা জারিতে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্য করা হয়েছিল

ওয়ান ইলেভেন: জরুরি অবস্থা জারিতে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্য করা হয়েছিল

আদালত প্রতিবেদক , সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধান লঙ্ঘন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (ওয়ান-ইলেভেন) কিছু উচ্চভিলাসী সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য করেছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে ব্যবসায়ীদের অর্থ ফেরত সংক্রান্ত এক মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের এক পর্যবেক্ষণে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজে রায়টি লিখেছেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন-বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

রায়ে একদিকে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের অতীত ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

রায়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে বলা হয়েছে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসামরিক বাহিনীকে সহায়তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোস্টগার্ড় চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্রসীমায় সম্পদ রক্ষা, ১৯৭০ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ দায়িত্ব পালনের মতো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রেখে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

রায়ে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার-পরিজন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও নৃসংশভাবে হত্যায় কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হয়, ১৯৭৫ এবং ১৯৮২ সালে কিছু বিপথগামী, ক্ষমতালোভী উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তা সামরিক আইন জারি করে। এসব বিপথগামী কর্মকর্তা ও জোয়ানদের দায় জাতীয় এ বাহিনীটির নেওয়া উচিত না।

একইভাবে ওয়ান ইলেভেন প্রসঙ্গে বলা হয়, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি কিছু কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতিকে জরুরী ক্ষমতা জারি করতে বাধ্য করে। দুর্নীতির অপবাদ ছড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। যদিও তিনি সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। ওই সময়ে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। কিছু উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তা রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। আইন বহির্ভূতভাবে কিছু সেনা কর্মকর্তা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু সে অবস্থায় এটিই তাদের একমাত্র দায়িত্ব ছিল না। এই অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণ রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে।

গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে সে বিষেয়ে রায়ে ৬টি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্র ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে মৌলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জাতীয় কৌশল প্রণয়নে আইন সভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সরকারের তত্ত্বাবধানে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর তদারকের মতো বিষয় উল্লেখযোগ্য।

রায়ের শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও সে ধরনের গৌরব, সম্মান ও আস্থার সঙ্গে জাতিকে নেতৃত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা তিন মাসের মধ্যে ফেরত দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে গত ১৬ মার্চ রায় দেন আপিল বিভাগ। সেই রায়ের ৮৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, জোর করে নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককের আইনগত কোনো বাঁধা নেই। ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে আদায় করা এসব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা যেমন ঝুকিপূর্ণ, তেমনি ভয়ানক বিপদও।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঢাকা/ ১৮ মে ২০১৭ /বৃহস্পতিবার/ ১১: ১০

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.