Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বিভাগীয় / ঢাকা বিভাগ / ঢাকা / সরকারের নতুন বেতন কাঠামো ও বেতন বৃদ্ধি অনৈতিক : বাংলাদেশ ন্যাপ
সরকারের নতুন বেতন কাঠামো ও বেতন বৃদ্ধি অনৈতিক : বাংলাদেশ ন্যাপ

সরকারের নতুন বেতন কাঠামো ও বেতন বৃদ্ধি অনৈতিক : বাংলাদেশ ন্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদের সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের ৯১.১১ ভাগ বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

আজ বুধবার এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেছেন, অল্প কিছুদিন পূর্বে দেশের কমবেশি ২১ লাখ কর্মচারীরও বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২১ লাখের সঙ্গে এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, স্পিকার, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য মিলে সংখ্যাটি খুব সামান্যই বড় হবে। অন্যদিকে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি। এদের মধ্য হয়তো দেশে উপার্জনক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৮ থেকে ৬০ ভাগ। তার পরও উপার্জনে অক্ষম সংখ্যাটি দাঁড়াবে ৯ থেকে ১০ কোটি। আর বেতন বাড়ল মাত্র ২১ লাখ মানুষ ও তাদের সাথে আরো কিছু মানুষের। ফলে প্রমানিত হলো আর আমরা আমজনতারা অভাগা।

বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে এখনও বাস করে ৩১.৫ ভাগ মানুষ। তারা চরম দরিদ্র অবস্থায় বাস করেন। আয়ের অর্থ দিয়ে খাবার যোগার করতেই তারা হিমশিম খায়, জীবনের অন্যসব চাহিদা পূরণতো দূরের কথা। যদিও সরকারের বক্তব্য বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। যা সত্যিই দেশের সাধারণ মানুষের সাথে ঠাট্টা করার মতই।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারনের পর এই খাতে সরকারের খরচের পরিমান দাড়িয়েছে ৬১ হাজার কোটি টাকায়। যা বাজেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ। আর এই বেতন-ভাতা আসে রাজস্ব বাজেট থেকে। মানে আমজনতার ট্যাক্সের টাকায়। ইতমধ্যে এই বেতন বাড়ানোর পলাফল বাজারে গেলেই টের পাওয়া গেছে, অর্থনীতি পড়তে হয় না। আর অর্থনীতিবিদরাতো এরইমধ্যে হিসাব কষে দেখিয়েছেন এই সুখবরে কতটা দুঃসংবাদ রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। তারা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ায় মূদ্রাস্ফীতির হার দুই অংকের ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। মানে শতকরা ১০ ভাগ বা তারও বেশি।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি নিজের বা নিজের পরিবারের জন্য কিছু করি না। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি।’ কিন্তু, সরকারের বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, মন্ত্রী সভার জন্য বোনাসের ব্যবস্থা কি আসলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য প্রমান করছে না ? সরকারের কর্মকান্ডে দেশের জনগন কি জনতা আর আমজনতা নামে দুইভাগে বিভক্ত হচ্ছে?
নেতৃদ্বয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি দেশের সকল জনগণের প্রধানমন্ত্রী। এই জনগণকে দুই ভাগে ভাগ করে একভাগের প্রধানমন্ত্রী হবেন না। শুধু যেন সরকারী জনগনের বেতন বৃদ্ধি না পায়, সাধারণ মানুষের বেতনও যেন বৃদ্ধি পায়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, শুধু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আর মন্ত্রী-সংসদদের বেতন বাড়ীয়ে অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী কারার যে স্বপ্ন দেখছেন তা পূরণ হবে না। ইতিহাস প্রমান করে পৃথিবীর সকল স্বৈরশাসকই মনে করতো জনগন নয়, প্রজাতান্ত্রের কর্মচারী আর দলীয় সদস্যরাই সরকারকে রক্ষা করবে। কিন্তু, সত্য হলো জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থাণ গ্রহন করে পৃথিবীর কোন স্বৈরশাসকের মেষ পরিনতি কখনো সুখকর হয় নাই। শুধু বেতন বৃদ্ধি করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঢাকা / ২১ অক্টোবর ২০১৫ / বুধবার / ১৪:৫৩

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.