Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বিভাগীয় / খুলনা বিভাগ / কালীগঞ্জে যৌতুকের কারণে মা মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা
কালীগঞ্জে যৌতুকের কারণে মা মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

কালীগঞ্জে যৌতুকের কারণে মা মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

আতিকুর রহমান টুটুল,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাশপুর গ্রামে মঙ্গলবার ভোরে মা তাসলিমা খাতুন (৪৫) ও মেয়ে তাসমিয়া ওরফে তাসনিম (১৮ মাস) কে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় গৃহকর্তা চাঁদ আলী (৫৫) ও তার মেয়ে উর্মি (২৫) মারাত্মক ভাবে দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ বাবা ও মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদ আলীর শরীর ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। যৌতুকের কারণে জামাই কামাল হোসেন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পরিবারটির অভিযোগ।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কে বা কারা চাঁদ আলীর ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় চাঁদ আলী ও তার স্ত্রী তাসলিমা খাতুন, দুই মেয়ে তাসনিম ও উর্মি খাতুন দগ্ধ হন।

তিনি আরো জানান, আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মা তাসলিমা খাতুন ও মেয়ে তাসনিমের মৃত্যু হয়। তাদের লাশ কালীগঞ্জে আনা হচ্ছে বলে ওসি জানান।

এদিকে দগদ্ধ উর্মি খাতুন অভিযোগ করেছেন, তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় যশোরের লেবুতলা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে কামালের সাথে। বিয়ের পর থেকেই কামাল যৌতুক দাবী করে আসছিলো। যৌতুকের কারণে তাকে মামধর করা হতো। এ করণে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। গত রোববার জামাই কামাল হোসেন ফোন করে যৌতুকের টাকা দাবী করেন। টাকা না দিলে গোটা পরিবার পুড়িয়ে হত্যা করা হবে বলে হুমকী দেয়। তার এই হুমকির পর মঙ্গলবার ভোরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে উর্মি থাকুন সাংবাদিকদের জানান।

উর্মির অভিযোগ তার স্বামীই এই ঘটনার সাথে জড়িত। গ্রামবাসি জানায় সোমবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে গ্রামে সালিশ বসে। সালিশে উর্মিকে শ্বরশু বাড়ি আর পাঠাবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় জামাই কামাল হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাতে কামালই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে গ্রামবাসি অভিযোগ।

এদিকে মা মেয়েকে মর্মান্তিক ভাবে পুড়িয়ে হত্যার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোয়ার হোসেন মোল্লাহ ও ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আসামী গ্রেফতার পুর্বক এ হত্যার সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে গ্রামবাসিকে আশ্বাস দেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, লাশ কালীগঞ্জে আসার পর ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হবে। তিনি আরো জানান, প্রাথমিক ভাবে তারা জামাই কামলকে সন্দেহ করে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি / ২০ অক্টোবর ২০১৫ / মঙ্গলবার / ১২:০৬

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.