Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / প্রচ্ছদ / ভারতকে বিশাল ছাড়: অবশেষে চালু হলো বাংলা ভারত করিডোর
ভারতকে বিশাল ছাড়: অবশেষে চালু হলো বাংলা ভারত করিডোর

ভারতকে বিশাল ছাড়: অবশেষে চালু হলো বাংলা ভারত করিডোর

Artical-Mehbubur Rahman pic Mobaidur-Rahmanমোবায়েদুর রহমান : অবশেষে বাংলাদেশ বিশাল ছাড় দিল ভারতকে। শুধু বিশাল ছাড় বলি কেন, রীতিমত সম্পূর্ণ এবং নিঃশর্ত ছাড় দিল বাংলাদেশ। এই সুবিধাটিই চাচ্ছিল ভারত। আজ নয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার শুরু থেকে। সঠিকভাবে বলতে গেলে সেই পাকিস্তান আমল থেকেই। অতীতের কোন সরকারই ভারতকে এই কনসেশন দেয়নি। কিন্তু এবার দেওয়া হলো। বিনিময়ে কি পেল বাংলাদেশ? কিছুই পায়নি। একেবারে লবডঙ্গ, ঠন ঠনা ঠন ঠন। গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার উদ্বোধন করা হয়েছে কলকাতা আগরতলা ভায়া বাংলাদেশ বাস সার্ভিস। এর অর্থ হলো পশ্চিম বঙ্গের রাজধানী কলকাতা এবং ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা সরাসরি সংযুক্ত হলো, তবে সেটি বাংলাদেশ হয়ে। বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয় যে, ওদের বাস ভারতের এক জায়গা থেকে ভারতেরই আরেক জায়গায় যাবে। অর্থাৎ ভারত থেকে ভারত যাবে। এই যাওয়ার পথে তারা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাবে।

ট্রানজিট নয় করিডোর দিলাম

সরকার এটিকে বলে ট্রানজিট। কিন্তু আলোচ্য বাস সার্ভিস ট্রানজিট নয়, করিডোর। এক দেশ থেকে আরেক দেশ হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়াকে বলে ট্রানজিট। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে এক দেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে নয়, এমনকি দ্বিতীয় কোনো দেশেও নয়, একই দেশের এক স্থান থেকে সেই দেশেরই আরেক স্থানে যাওয়া হচ্ছে। মাঝখানে অপর একটি দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূ-খন্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এটির নাম করিডোর, ট্রানজিট নয়।

এতদিন ধরে বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গের মধ্যে বাস সার্ভিস চালু ছিল। এবার ভারতের আরেকটি প্রদেশ অর্থাৎ ত্রিপুরা এই সার্ভিসে যুক্ত হলো। গত জুন মাসে ঢাকায় এসে ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চুক্তিটির বাস্তবায়ন হলো চার মাস ১২ দিন পর গত শুক্রবার। গত শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে ৪৫ আসন বিশিষ্ট একটি ভলবো বাস কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এই বাসটি ঢাকা হয়ে কলকাতা যাবে। অনুরূপভাবে কলকাতা থেকে অপর একটি বাস আগরতলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে এবং ঢাকা হয়ে আগরতলা যাবে।

১১৬০ কি.মি. পথ হ্রাস
২০ ঘন্টা সময় কম

প্রথম পর্যায়ে এই বাস সার্ভিস সপ্তাহে ২ দিন অপারেট করবে। ভাড়া হবে ভারতীয় রুপীতে ১৮০০ থেকে ২০০০ রুপী। ইতিপূর্বে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে অথবা আগরতলা থেকে কলকাতা যেতে পাড়ি দিতে হতো ১৬৭৫ কিলোমিটার পথ। কিন্তু এখন বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা বা আগরতলা যেতে পাড়ি দিতে হবে মাত্র ৫১৫ কিলোমিটার পথ। অর্থাৎ বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে পেয়ে ভারতের কমে গেল ১১৬০ কিলোমিটার পথ। অতীতে এই ১৬৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত ৩৬ ঘন্টা। কিন্তু এখন বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে পেয়ে তাদের সময় লাগবে মাত্র ১৬ ঘন্টা। অর্থাৎ তাদের সময় বেঁচে গেল ২০ ঘন্টা।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিগত সফরকালে তিনি দুটি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন। একটি হলো ঢাকা-শিলং-গৌহাটি, আরেকটি হলো ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা। কিন্তু ঢাকা কলকাতা আগরতলা বাস সার্ভিস শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নিয়মিত বাস সার্ভিস চলাচল করছে ঢাকা-কলকাতা এবং ঢাকা আগরতলা বাস সার্ভিস। আর ট্রেন সার্ভিস রয়েছে ঢাকা-কলকাতার মধ্যেই। ১৯৯৯ সালে ঢাকা কলকাতা বাস সার্ভিস চালু হয়। ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালু হয়। খুলনা-কলকাতা এবং যশোর-কলকাতা বাস সার্ভিস চালুর ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার দ্বয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। রেল যোগাযোগ খাতে আখাউড়া আগরতলা রেল সংযোগ এবং পুরাতন রেল সংযোগ সমূহ চালু করার ব্যাপারেও দুই দেশের সরকার দ্বয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে।

৬৭ বছরের আশা পূরণ

বাংলাদেশ ভারতকে সম্পূর্ণ এবং বহুমূখী করিডোর সুযোগ সুবিধা দিয়ে দিল। এর আগে ভারতকে মংলা এবং চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। এই দুটি সুবিধাই ভারত চাচ্ছিল বিগত ৬৭ বছর ধরে। ৬৭ বছর পর তারা সেই দুটি সুবিধাই পেয়ে গেল। কিন্তু বিনিময়ে আমরা কি পেলাম?
বাংলাদেশে একটি গান আছে, যার প্রথম দুটি লাইন হলো,

তোমাকে ভালবেসে আমি অবশেষে কি পেলাম?

বাংলাদেশ তো উদার। সে মুক্ত হস্তে দান করে। বাংলাদেশ দান ছত্র খুলে বসেছে। তাই

আমরা সব সময় গেয়ে চলি,
রিক্ত আমি নিঃস্ব আমি
দেবার কিছু নাই,
আছে শুধু ভালবাসা
দিলাম আমি তাই।

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.