Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / জাতীয় / ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি : যুক্তরাষ্ট্র
৫ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি : যুক্তরাষ্ট্র

৫ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি : যুক্তরাষ্ট্র

সবুজবাংলা ডেস্ক (যুক্তরাষ্ট্র) : বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি বলে আবারও দাবী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্র্রিডম’ বা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক ১৭তম বার্ষিক এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মূলত ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে টার্গেট করে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বৈরিতা সৃষ্টির মাধ্যমে সংঘাতকে উস্কে দেয়া হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ও এশিয়ায় বেশ কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন ধর্মীয় গোষ্ঠিসমূহের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, বক্তৃতাবাজি নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তা বাস্তবায়নের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করাই তাদের এই বার্ষিক প্রতিবেদনের লক্ষ্য।২০১৪ সালের ঘটনার আলোকে ওই প্রতিবেদনটি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় নি। অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার ১৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৬টিতে। আর বেশিরভাগ আক্রমণের জন্য বিএনপি ও প্রধান ধর্মীয় দল জামায়াত-ই-ইসলামী-এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়েছিল।

মার্কিন প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জঘন্যতম আক্রমণগুলো ঘটেছিল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে। অনেক হিন্দুর সম্পত্তি লুট, ধ্বংস করা বা আগুন লাগানো হয়েছিল। শত শত হিন্দু তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন। খ্র্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়কেও আক্রমণের নিশানা বানানো হয়েছিল।এতে বলা হয়, সহিংসতা থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার তৎপর নয়। বাংলাদেশে সহিংসতা থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে রক্ষায় সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রায়ই ধীরগতিতে কাজ করে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সহিংস ঘটনা তদন্তে কর্তৃপক্ষের ‘অনীহার’ কথাও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের উপর হামলার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ওই বছর মে মাসে ১২ বছরের একটি হিন্দু মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনা তদন্ত করতে পুলিশ অনীহা জানায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা কখনো কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার উস্কানি দিয়ে থাকেন। এর উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনে দুই হিন্দু নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার হিন্দুদের উপর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে এতে।

আমেরিকার ওই বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংসতার পরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সমর্থনে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছিলেন, কিন্তু রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছিল যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে সরকার দ্বারা প্রেরিত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সক্রিয়ভাবে সংঘাত থামায়নি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতে অংশ নিয়েছিল।প্রতিবেদনে ইরাক ও সিরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নষ্টের মূল কারণ হিসাবে ইসলামিক স্টেটের কর্মকা-কে দায়ী করা হয়।

এছাড়া ইরাকে শিয়া মুসলমানদের সহিংস কর্মকা-, সিরিয়ায় আল নুসরা ফ্রন্টের জঙ্গী তৎপরতা, নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের সহিংসতা, পাকিস্তানে লস্কর ই জাংভি, জার্মানী ও ফ্রান্সে ইহুদীবিদ্বেষী মনোভাবীদের কর্মকা- ও মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। মিয়ানমারে কট্টরপন্থি বৌদ্ধদের মুসলিমবিরোধী অবস্থান এবং সেখানে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর বিধি-নিষেধের বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে কয়েক ডজন রোহিঙ্গা হত্যাকা-ের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হওয়াকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা বলা হয়েছে এতে। এক পুলিশ কর্মকর্তা খুন হওয়ার জেরে সে সময় ওই হত্যাকা- চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ যুক্তরাষ্ট্র /১৬ অক্টোবর ২০১৫ / শুক্রবার / ০০:০৪

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.