Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / বিভাগীয় / ঢাকা বিভাগ / ঢাকা / দুই বিদেশি হত্যা; প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন : শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন
দুই বিদেশি হত্যা; প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন : শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

দুই বিদেশি হত্যা; প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন : শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : দুই বিদেশী হত্যাকা- নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ওই তদন্তে দলের নেতৃবৃন্দ জড়িত থাকা প্রমাণিত হলে দল ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল দুপুরে গুলশানের এক নম্বরে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এই দাবি করেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দুই বিদেশী হত্যার আমি অবশ্যই বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই। প্রধানমন্ত্রীর কথামতে এটার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) এর মধ্যে জড়িয়েছেন কিনা আমি জানি না, অন্ততঃ প্রয়াস পেয়েছেন। তাতে এটা সর্বোচ্চ ফোরামেই তদন্ত হওয়া দরকার। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দিয়ে একটা কমিটি করা হউক। ওই কমিটি করে যদি এর সাথে খালেদা জিয়া জড়িত থাকেন, আই উইল বি দ্যা লাস্ট টাইম টু সাপোর্ট হার। যদি তারেক রহমান এর সাথে জড়িত থাকেন, আমি বিএনপিতে থাকা তো দূরের কথা, আই উইল বি দ্যা লাস্ট পারসন টু সাপোর্ট দ্যাম।

তিনি বলেন, বিদেশীরা আমাদের দেশে আসলে আমাদের দেশের উন্নতি হবে। সেই জায়গায় যারা এই ধরনের অপরাধ করতে পারে, তাদের সাথে যদি এই পার্টি জড়িত থাকে, আই অ্যাম নট ইন দি পার্টি। আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। আমি মনে করি, তদন্তের আগে প্রধানমন্ত্রী যে দোষারোপ করে বক্তব্য রেখেছেন, এতে প্রকৃত দোষীরা আড়াল হওয়ার সুযোগও পাবে। কেবল তাই নয়, সরকার প্রধানের এহেন বক্তব্যে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এজেন্সিগুলোও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে না। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে ইতালীয় এনজিওকর্মী চেজারে তাভেল্লা এবং ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও খুন হওয়ার পর জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর দায় স্বীকার করেছে বলে খবর দেয় ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ নামের একটি সংস্থা, যারা জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে। তবে ওই তথ্যের ‘প্রমাণ মেলেনি’ জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, এটা তাদেরই ষড়যন্ত্র।৭৮ বছর বয়েসী প্রবীণ রাজনীতিক শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন অসুস্থ অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। এরশাদ শাসনামলের উপ-প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে সংসদের চীফ হুইপ ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দলের চেয়ারপারসন লন্ডন থেকে ফিরে আসলে নীতিনির্ধারণী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পক্ষে আমি নই।

এরশাদ আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ওই সময়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, আমি দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ছিলাম। উপজেলা পদ্ধতিটা আমার বেইন চাইন্ড। উপজেলায় কোনো কর নেই। সরকার থেকে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, সেই অর্থ দিয়ে তাদের মাতব্বরী। তাদেরকে গাড়িও দেয়া হয়। এই উপজেলায় যখন নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হয়ে যান, তখন তারা কিন্তু অলমোস্ট গভর্নমেন্ট সার্ভেন্ট-এর মতো হয়ে যায়। কারণ কোথাও চেয়ারম্যানদের যেতে হলে ছুটি নিয়ে যেতে হয়।

স্থানীয় সরকারের উপজেলা পদ্ধতির আইন প্রণয়নের পটভূমি উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার স্থানীয়ভাবেই হয়। উপজেলা আইনটি আমার নিজের হাতে করা। উপজেলায় যে টাকা দেয়া হয়- প্রসঙ্গত বলছি, আমি অর্থাৎ সরকার আপনাকে অর্থ দেবে, ১০ কোটি টাকা দেবে, উপজেলায় কাজ করবেন। আমি বিএনপির লোক। আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করবেন, এজন্য আমি টাকা দেবো ? কেউ দেয় না। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার যে টাকাটা দিচ্ছে, অনেকে বিএনপি নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েছেন, তাতে কি হয়েছে। সেজন্য আজ আমাদের অনেক উপজেলা, পৌর সভার চেয়ারম্যান জেলে আছেন, মামলায় হামলায় আছেন। গাজীপুরের মেয়র আবদুল মান্নানকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তিনি জেলে আছেন। এখনো যারা স্থানীয় সরকারে আছেন, তারা সরকারের পক্ষে কাজ করতে হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা। রাজধানীতে বিদেশী হত্যাকা-ের পর কূটনীতিপাড়ায় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী টহলের সমালোচনাও করেন শাহ মোয়াজ্জেম।বিজিবিকে রাজধানীতে কেনো মোতায়ন করা হবে। তাদের কাজ তো সীমান্তে। যার কাজ তারে সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে। আমাদের দেশে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, র‌্যাবসহ অনেক এজেন্সী রয়েছে। বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্তটা হয়ত সঠিক হয়নি বলে আমি মনে করি।

গাইবান্ধায় শিশু সৌরভকে গুলির মামলায় আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের গ্রেফতারের বিলম্বে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের এমপি শিশুকে গুলি করেছে। এটা তার জন্য নতুন না। তার এই চরিত্রটার সঙ্গে বর্তমান ছাত্রলীগের মিল রয়েছে। পত্রিকায় দেখেছি, সে আদালতে এসেছে। কেনো আদালত তাকে সেদিনই গ্রেফতার করতে বললো না। এটাই ছিলো সমীচীন। সরকারের পক্ষ থেকে তখনই দাবি করা উচিত ছিলো- তাকে গ্রেফতারের। এটর্নী জেনারেল পরে যাচ্ছেন ওই অর্ডারটা পরিবর্তন করতে। শুনেছি, তিনি পরিবর্তনও করছেন। কালকে ওই এমপি গ্রেফতার হয়েছে। তবে এসব দেখে আমার কাছে এটা সাজানো খেলা মনে হচ্ছে। কী খেলাধুলো হচ্ছে ? একটা লোক গুলি করলো, তার পাত্তা নেই, খবর নেই। তারপর সে আদালতে আসলো, গ্রেফতার হলো না। আর সেই লোকটাকে গ্রেফতার করা হলো না। এটা হয় না।

বর্তমানের নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, আমি অনেক সময় ঠাট্টা করে বলি এটা একটা নারী স্থান। এখানে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, গৃহ পোষ্য বিরোধী দলীয় নেতা নারী, বাইরের একটি বৃহত্তর দলের নেত্রীও নারী। এটাকে নারীস্থান ইজিলি বলা যায়। ব্যবসায়ীদের পকেটে রাজনীতি- প্রেসিডেন্ট আব্দুুল হামিদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তিনি।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঢাকা /১৬ অক্টোবর ২০১৫ / শুক্রবার / ০০:২৪

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.