Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / জাতীয় / জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রশ্নের মুখে পড়বে : টিআইবি
জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রশ্নের মুখে পড়বে : টিআইবি

জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রশ্নের মুখে পড়বে : টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার,সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বাংলাদেশ প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এ সম্মেলনের আগেই এ নিয়ে সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাববিষয়ক বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনে অনিয়ম হয়েছে বলেও টিআইবি জানায়।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। আসন্ন কপ-২১ প্যারিস সম্মেলন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্যারিস সম্মেলনে যাওয়ার আগেই সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে একটা ঘোষণা আসা উচিত। সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। যারা আন্তর্জাতিক এক্সপার্ট তাদের দিয়ে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও ক্ষতিকারণ প্রভাব পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

ড. জামান বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিয়ে প্যারিসে আলোচনা হবে, এটা অবধারিত। আমাদের সরকারের প্রতিনিধি দল সেখানে অপমান হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সম্মেলনে যোগদানের আগেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তারা আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তারা ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে সে অঙ্গীকার অনুসারে উন্নত দেশগুলো অর্থ ছাড় করছেন না। আবার যতটুকু ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে তা আবার কোনো কোনো মহল থেকে ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশ উভয় দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশ যেন শক্ত অবস্থান নেয়, সে জন্য ১০টি দাবি তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনি বাধ্যতামূলক চুক্তি বাস্তবায়ন করা, প্যারিস চুক্তিতে আইনি বাধ্যতার আওতায় ‘দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নতুন’ শুধুমাত্র অনুদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ২০১৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে দীর্ঘ মেয়াদে যথার্থ এবং চাহিদা ভিত্তিক অর্থায়নের পথ নকশা প্রণয়ন করা।

এছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে দারিদ্র্য বিমোচনে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা এবং প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রদান ও তা বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা, জিসিএফ ও অন্যান্য উৎস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে তহবিল প্রদানে অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিও জানায় টিআইবি।

টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হোসেন খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঢাকা /১৬ অক্টোবর ২০১৫ / শুক্রবার / ০০:২৪

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.