Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
প্রচ্ছদ / সাহিত্য / গল্প / দুনিয়ার সব মানুষ পাগল ! তুইও পাগল হয়ে যাবি !!
দুনিয়ার সব মানুষ পাগল ! তুইও পাগল হয়ে যাবি !!

দুনিয়ার সব মানুষ পাগল ! তুইও পাগল হয়ে যাবি !!

Artical-Shalauddin Masudসালাহুদ্দীন মাসউদ : সন্ধ্যার পর হাঁটছি কবরের পাশ দিয়ে। পুরাতন কয়েকটি কবর। পারিবারিক গোরস্থান হবে হয়তো।

: ধ্যাৎ, দুনিয়ার মানুষ সব পাগল হয়ে গেছে। এরচেয়ে কবর অনেক ভালো।
থমকে দাঁড়ালাম। কে? কে?

ঘুরে দাঁড়াতেই দেখি সাদা কাফনে মোড়া এক ব্যক্তি হন হন করে হেঁটে যাচ্ছে একটি পুরাতন কবরের দিকে।

: এই হ্যালো! পাগল হয়েছেন নাকি? ওদিকটাতে যান কেন? তাও আবার কাফনের কাপড় পরে। মরার সখ হয়েছে?

: আমি পাগল না। আ তোরাই সব পাগল । আমার মরার সখ হয়নি। আমি মরা মানুষ।
শিউরে উঠলাম। কয় কিরে ব্যাটা!

আমার কম্পিত পা দুটো জমে গেল। লোকটি কি যেন ভেবে থেমে গেল। আমার মুখমন্ডল শুকিয়ে এলো। আমি মরা মানুষের সাথে কথা বলছি?
: কি, আপনি আমার কাছে আসছেন কেন? ভূত নাকি আপনি?

: আরে না। ভূত না। আমি এই কবরেই থাকি।

: তাহলে উপরে কেন?

আমার হাতটা ধরে পাশেই বসে পড়লেন তিনি। আমিও বাধ্য হয়ে বসে পড়লাম।
তিনি আমাকে নির্ভয় দিলেন। বললেন, কোন ভয় নেই। আমি তোর কোন ক্ষতি করবো না। আমার ভয় অনেকটাই কেটে গেল। হয়তো বেশি ভয়ে মানুষ সাহসী হয়ে ওঠে, এমনই হলো আমার সাথে।

: তো মরা মানুষ সাহেব! আপনি কি মনে করে উপরে?

: আর বলিস না ভাই! ভেবেছিলাম, বাড়ি থেকে একটু ঘুরে আসি। দেখি নাতিপুতিরা কেমন আছে। গিয়ে দেখলাম, সব শেষ। আমার বংশরক্ষার কেউ নেই। কেউ নেই। এই বলে লোকটি কাঁদতে আরম্ভ করলো।

: কী হয়েছে? খুলে বলুন।

: আরে ! সব পাগল হয়ে গেছে। বাসার সব্বাই পাগল হয়ে গেছে।

: কেন? কী দেখলেন?

: আর বলিস না। প্রথমেই গেলাম নাতিটার ঘরে। ওরে আল্লাহ! কী দেখি জানিস! ছেলেটার মাথা একদম গেছে। ঘরে বসে আছে সোফায়। হাতে কি একটা জিনিস। তার গায়ে বোতামের মত কিছু দেখা যায়। ছেলেটা ঐ জিনিসে পাগলের মত টিপছে। সামনে একটা বাকশো। ওটার ভেতরে কি যেন দৌড়াদৌড়ি করছে। ডিসুম ডিসুম আওয়াজ হচ্ছে আর ছেলেটা চিল্লাচিল্লি করছে। হায় আল্লাহ! ছেলেটার কী হলো? পাগলই হয়ে গেছে।

আমি বুঝলাম, ছেলেটি গেম্ স খেলছে। বেচারা তার হায়াতে তো এমন কিছু দেখেনি। তাকে কিভাবে বুঝাই যে ওটা গেম। আর আমাকে বোঝানোর সুযোগ দিচ্ছে কোথায়। তিনি বকেই যাচ্ছে একের পর এর।

তারপর কি দেখলাম জানিস? আমার বউমার ঘরে গেলাম। দেখলাম, শুয়ে শুয়ে কথা বলছে। ভাবে বুঝলাম, আমার ছেলের সাথে কথা বলছে কিন্তু ছেলে তো এখন বাসায় নেই। কার সাথে কথা বলে? ঘরে অন্যকোন মানুষও নেই। কথা বলছে এদিক সেদিক তাকিয়ে তাকিয়ে। কোন একদিকে তাকিয়েও নয়। আর এক হাত দিয়ে কানে কী যেন একটা ধরে রেখেছে। হায় আল্লাহ! আমার বউমাও পাগল হয়ে গেছে। মাথা পুরোটাই গেছে।

এরপর গেলাম নাতনির ঘরে। ও আল্লাহ! ওখানে তো আরো ভয়ানক অবস্থা। বসে আছে সোফায়। সামনে একটা বাকশো। বাকশের মধ্যে কয়েকজন মহিলা মানুষকে কেমনে যেন তুলেছে জানিনা। ওখানে তার ঝগড়া করছে। আর নাতনিটা ওদিকে তাকিয়ে আছে মনযোগ সহকারে। কী জানি বাপু। আমার মাথায় কিছু ঢুকলো না। ঐ বাকশের ভেতরে মেয়েগুলো ঢুকলো কি করে? আর ছোট ছোট মেয়েগুলি কোন্ দেশের?
হায় আল্লাহ! এরা সব পাগল হয়ে গেছে।

লোকটির অস্থিরতা দেখে আন্দাজ করতে দেরি হলো না আমার। তার ছেলের বউ কথা বলছে মোবাইলে আর নাতনি দেখছে হিন্দি সিরিয়াল। বেচারাকে বুঝ‍াই ক্যামনে?

এরি মধ্যে বেজে উঠলো আমার ফোন। রিং টোন দেয়া ছিল আযানের। আযানের শব্দ শুনেই বৃদ্ধ লোকটি পড়িমড়ি করে দৌড় দিল।

: নারে বাবা! এই ‍দুনিয়াতে থাকা যাবে না। আজকালকে মোয়াজ্জিনরাও সব পাগল হয়ে গেছে। এই কিছুক্ষণ আগেই মাগরিবের আযান হলো। এত তাড়াতাড়ি কিসের আযান? যাই বাবা, এরা সব পাগল হয়ে গেছে।

এই বলে লোকটি পড়িমড়ি করে গিয়ে ঢুকলো একটি পুরাতন কবরে।

মুচকি হেসে মনে মনে বললাম, আরো বুড়ো! কেবল তো দেখছিস দু’চারটা পাগলামি। আর যেন দুনিয়াতে ফেরার স্বপ্নও দেখিস না, তুইও পাগল হয়ে যাবি। কবরে ফিরতে পারবি না। সোজা পাবনা মেন্টালে হবে তোর ঠিকানা।
ওখানে আছিস, ভালো আছিস।

সবুজবাংলা২৪ডটকম/  ঢাকা / ০২  সেপ্টেম্বর ২০১৪ /মঙ্গলবার/ ২১:১০

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.