Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
প্রচ্ছদ / অন্যান্য / গ্রীষ্মে ফুটেছে নয়নাভিরাম ফুল
গ্রীষ্মে ফুটেছে নয়নাভিরাম ফুল

গ্রীষ্মে ফুটেছে নয়নাভিরাম ফুল

সবুজবাংলা২৪ডটকম (ঢাকা) : ঋতু চক্রের আবর্তনে নয়নাভিরাম ফুলের এক বর্ণিল আয়োজন নিয়ে আমাদের প্রকৃতিতে আবারো হাজির হয়েছে গ্রীষ্মকাল।

ফুলের কথা উঠলে আগে আসে ঋতুরাজ বসন্তের কথা। কিন্তু গ্রীষ্মেও  ফোটে নানা রঙের বাহারি ফুল। প্রচণ্ড দাবদাহে কিছুটা হলেও প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় এসব ফুল। হলুদ সোনালু, বেগুনি জারুল ও লাল কৃষ্ণচূড়া এদের মধ্যে অন্যতম।

এছাড়া গ্রীষ্মে ফোটে আরো নানা ফুল। এদের মধ্যে কাঁটার মুকুট বা ক্রাউন অব থর্ন, গন্ধরাজ, লাল চাঁপা, সাদা চাঁপা, চুলের বেণির মতো গোলাপি অর্কিড ও মে ফ্লাউয়ারসহ কত কী!

গ্রীষ্মের চোখ জুড়ানো বর্ণিল ফুল বাঙ্গালী মনকে নাড়া দেয় খুব গভীরভাবে। ইট পাথরের শহর ছেড়ে একটু গ্রামীণ প্রকৃতির কাছে গেলেই এসময় চোখে পড়বে এসব বাহারি ফুল।

অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবাধে বৃক্ষ নিধনের ফলে আমাদের চিরচেনা এসব ফুলেল বৃক্ষরাজি বহু আগেই শহর থেকে নির্বাসিত হয়েছে। তাই গ্রীষ্মের এসব ফুল সম্পর্কে  বর্তমান প্রজন্মের তেমন  ধারণা নেই বললেই চলে।

কৃষ্ণচূড়া

কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের অতি পরিচিত একটি ফুল। বাংলা কাব্য, সাহিত্য, সংগীত ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। শোভাবর্ধণকারী এ বৃক্ষটি গ্রামের পাশাপাশি এখনো তার নড়বড়ে অস্থিত্ব নিয়ে কোনো রকমে টিকে আছে শহরের পথে প্রান্তরে। আমাদের দেশে দুই ধরনের কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটতে দেখা যায়। একটি আগুনের মতো উজ্জ্বল লাল অন্যটি লাল হলদেটে। তবে লাল কৃষ্ণচূড়ার প্রাচুর্যতাই বেশি চোখে পড়ে। লাল হলদেটে রংয়ের কৃষ্ণচূড়া বর্তমানে বেশ বিরল।

লাল হলদেটে ফুলের কৃষ্ণচূড়াকে অনেকে রাধাচূড়া বলে থাকে। রাধাচূড়া ফুলে মূলত লাল ও হলুদের সংমিশ্রণ দেখা যায়। তবে কনকচূড়া ফুল সম্পূর্ণ রূপে হলুদ হয়ে থাকে। কনকচূড়া ফুল তেমন একটা চোখে পড়েনা।

কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার, রাধাচূড়ার জন্ম ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর কনকচূড়ার জন্মস্থান শ্রীলংকা বা অস্ট্রেলিয়া। ভীনদেশি এ ফুলেল বৃক্ষগুলো আমাদের দেশে এসে নতুন নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হয় হিন্দু পুরাণের রাধা ও কৃষ্ণের নামানুসারে বৃক্ষ দুটির নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া।

তবে কনকচূড়ার নাম হাল আমলে বৃক্ষপ্রেমীরা দিয়েছেন বলে অনুমেয়। গ্রীষ্মে যখন কৃষ্ণচূড়া ফোটে এর রূপে মুগ্ধ হয়ে ব্যস্ত পথচারীও থমকে তাকায় কিছু সময়ের জন্য।

জারুল

গ্রীষ্মের দাবদাহে চোখ ধাঁধাঁনো বেগুনি রংয়ের বিচ্ছুরণ নিয়ে প্রকৃতিতে নিজের আগমনের কথা জানান দেয় জারুল ফুল। গ্রীষ্মের ফুল হিসেবে জারুল অতুলনীয়। বর্তমানে শহরে জারুল গাছ খুবই বিরল। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো জারুল গাছের আধিক্য লক্ষ করা যায়। চমৎকার বেগুনি রংয়ে রাঙ্গানো এ জারুল ফুল আমাদের মনের গহীনে জাগ্রত করে এক অন্য রকম ভাললাগা।

সোনালু

হলুদে ছাওয়া ঝুমকার মতো ঝুলে থাকা সোনালু ফুল যে কারো মন ছুঁয়ে যাবে। সোনালু গাছ আমাদের দেশে ঔষধি গাছ হিসেবেই বেশি পরিচিত। গ্রামাঞ্চলে এ গাছকে অনেকে বানর লাঠি গাছও বলে থাকে। সোনালু গাছের ফল ঠান্ডা ও কাশি উপশমের জন্য বেশ উপকারী।

আমাদের দেশে সোনালু গাছ আগের মতো তেমন একটা চোখে পড়েনা। তবে গ্রামে এখনো কিছু সোনালু গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ঝুমকা ঝুমকা সোনালু ফুলের রূপ সৌন্দর্য সবাইকে নিয়ে যায় ভাবনার জগতে। গ্রীষ্মের বাতাসে হলুদ সোনালু ফুলের দোলা প্রকৃতিতে সৃষ্টি করে এক অন্য রকম আবহ। গ্রীষ্মের ফুল হিসেবে সোনালু ফুল এক কথায় অনন্য। প্রতি বছর গ্রীষ্মে হলুদ পরী হয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয় সোনালু ফুল।

হিজল

ঐতিহ্যবাহী গাছের মধ্যে হিজল গাছ একটি। এ গাছটি আমাদের প্রকৃতি থেকে দিন দিন হারিয়েই যাচ্ছে। হিজল গাছ পুকুর, খাল ও জলাশয়ের ধারে বেশি জন্মায়। হিজল গাছের সবচেয়ে বেশি ভাললাগার দিকটি হচ্ছে এর চমৎকার ফুল।

গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে হিজল গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। রক্ত রাঙ্গা হিজল ফুলের লহরি আর মাতাল ঘ্রাণ সবাইকে বিমোহিত করে তোলে। ছোট আকৃতির রক্ত রাঙ্গা হিজল ফুল গাছের নিচে ঝরে পড়ে সৃষ্টি করে এক দৃষ্টি নন্দন পুষ্প শয্যা।

চিরায়ত বাংলার হিজল ফুলের প্রেমে পড়ে অনেক কবি -সাহিত্যিক রচনা করেছেন বহু গল্প-কবিতা। তাই বাঙ্গালী হৃদয়ে হিজল ফুলের আবেদন হয়তো কখনো ফুরাবে না।

গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে চারদিক যখন খাঁখাঁ করছে, প্রচণ্ড গরমে জীবন যখন ওষ্ঠাগত, শরীর থেকে ঝরঝর করে ঘাম ঝরছে— এমন পরিস্থিতিতে তখন আপনি কোনো বাহনে কিংবা পায়ে হাঁটার সময় রাস্তার পাশে প্রকৃতিতে দেখতে পাবেন ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য। শহর কিংবা গ্রামের গাছে গাছে যেন মেলা বসেছে বাহারি ফুলের।

প্রকৃতি তার আপন মহিমায় ঠিকই নিজেকে তুলে ধরেছে। দেখবেন কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, রেইনট্রি, জারুল, হিজল, সোনালু, অশোক, বসন্তরঞ্জিনী, মালতি, বকুল, কাস্টার মুকুট বা ক্রাউন অব থর্ন, গন্ধরাজ, লাল চাঁপা, সাদা চাঁপা, চুলের বেণির মতো গোলাপি অর্কিড, মে ফ্লাউয়ার, বেলী, গোলাপ, মল্লিকা, বাটারফ্লাই, পর্টুলেকা, হাসনাহেনা, অ্যাস্টার, প্রভৃতি দেশি-বিদেশি মৌসুমি ফুল ফুটে প্রকৃতি আলো করে রেখেছে। অনেকের বাসাবাড়ির  ছাদেও নানা রকম ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়।

শহুরে জীবনের হাজারও ব্যস্ততার ফাঁকে একটু প্রকৃতির দিকে তাকান। দেখবেন হাজারো ফুল আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি আসবে।

বাহারি কৃষ্ণচূড়া দেখে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হয়তো আনমনেই আপনার মনে ভেসে উঠবে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের চেতনায় কবি শামসুর রাহমানের লেখা সেই কালজয়ী কবিতা ‘আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে/কেমন নিবিড় হয়ে কখনো মিছিলে কখনো-বা/একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ফুল নয়, ওরা/শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।’-ওয়েবসাইট

সবুজবাংলা২৪ডটকম/ ঢাকা / ৬ মে ২০১৪ / মঙ্গলবার /১০:৩০

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.