Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
প্রচ্ছদ / সাহিত্য / গল্প / প্রশান্ত মৃধার তিনটি গল্প

প্রশান্ত মৃধার তিনটি গল্প

চুম্বনের স্বাদ

ছেলেটি মেয়েটিকে বলল, ‘তোমাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে!’ মেয়েটি ঘরের ঝুল ঝাড়ছিল। মুখে ঘাম, পরিশ্রমে চুল আলুথালু, একটু ক্লান্ত। শুনে অভিমানের সঙ্গে রাগসহ কটমট করে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমার হাতে ধুলো।’

ছেলেটি ভড়কে গেল। একটু ভয়ও পেল যেন। খানিক বিব্রতও। ভাবল, মেয়েটির হাতে ধুলো না থাকলে হয়তো চড়টড় খেত। সে মেয়েটির কাছাকাছি যেখানে দাঁড়িয়ে বলেছিল কথাটা, সেখান থেকে সরে এলো। আর তখনই ছেলেটিকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে মেয়েটি বলল, ‘কী, সরে গেলা কেন? সত্যিই তো দেখছো না, আমার হাতে ধুলো। এখন তোমার মুখের দু’পাশে কোনোভাবে হাত দিতে পারতাম না!’

সঙ্গে সঙ্গে চুমু না খেয়েও ছেলেটি পেল একটি চুম্বনের স্বাদ!

 

উকিল

এ শহরে একেক রাস্তায় ১০ জন করে উকিলের বাড়ি। প্রত্যেকের দরজার সামনে সাঁটা নামফলক। এত উকিল এই শহরে! এক আগন্তুকের কাছে কারণ খুঁজতে চাইল। কিন্তু ভাবে, কাকে জিজ্ঞেস করে। দু’একজনকে জিজ্ঞেস করেও কোনো সদুত্তর পেল না।

পরদিন পাশের এক গঞ্জে গিয়েছে আগন্তুক। লঞ্চের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। চর এলাকা। নদী-খাল বাদে আশপাশে সবই চর। সেখানে হঠাৎ গজিয়েছে কোনো লোকালয়। সে শুনেছে এসব চরে কারও কারও প্রায় মাপহীন জমি। এ নিয়ে ভূস্বামীতে ভূস্বামীতে কাজিয়া-বিবাদ লেগেই আছে। লোকটা ভাবল, এই বিবাদের কারণ কী, তাই লঞ্চঘাটে কারও কাছে জিজ্ঞাসা করে জানে।

এ সময় একটা লঞ্চ এলো। লঞ্চের ওপর দাঁড়ানো এক বয়স্ককে ডাঙ্গা থেকে এক তরুণী জিজ্ঞাসা করল, ‘ও দুদু, সেচেলা কোতায়?’

বয়স্ক উঁচু গলায় বলল, ‘সদরে কাছারিতেÑ!’

‘কাছারিতে? আইজগো তারিখ আল্কে নাহি কোনো কেসেরÑ’

‘না!’

‘তয়?’

‘আইজ মুহুরির ধারে তারিখ আনতে গেছেলাম।

‘আর

‘আর?

বয়স্ক একই গলায় জানাল, ‘তোর নামে পুবের চরের জমি নিয়া একটা কেস দিয়া আইচিÑ’

‘কও কী?’

বয়স্ক হাসতে হাসতে জানাল, ‘হয়। রোজ একলা একলা কোর্টে যাই। একলা একলা কোর্ট-কাছারি করতে আর ভালো লাগে না। এহোন দুইজন একসাথে যাবোহানে। কী কও?’

আগন্তুক আর কারও কাছে এই শহরে কেন এত উকিল তা জিজ্ঞাসা করল না। সে জবাব পেয়ে গেছে।

 

খালি বোতল

বোতল টোকানো ছেলেটি লঞ্চের কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে লোকটির কাছে প্রায় আকুতি জানাল, ‘স্যার, খালি বোতলটি দেবেন?’

লোকটি বোতল টোকানো ছেলেটিকে দেখল একবার। হাতে আরও দুটো দুই লিটারি খালি বোতল। এটি হলে তার তিনটি হবে। লঞ্চ ঘাটে ভেড়ার পরে বোতল টোকাতে উঠে। অন্য কেবিন থেকে সে এ দুটো পেয়েছে। লোকটি ছেলেটিকে বোতলটি না দেয়ার ভান করল। বলল, ‘এই বোতল আমি বেচব।’

ছেলেটির তাৎক্ষণিক জবাব, ‘কী যে কন, স্যার? এই বোতল বেইচ্যা আমি দুই টাকা পাব।’

‘সেই জন্যেই আমি এটা বেচতে চাইÑ’

‘স্যার, অন্য কেউ বললে বলতাম এক টাকা পাব, আপনারে বললাম, দুই টাকা পাবÑ’ যদিও ছেলেটি একই কথা অন্যদেরও বলে।

‘তাহলে?’

‘এহোন আপনে যদি এক টাকা নিতে চান, আমি দেব। নেবেন?’

লোকটি ছেলেটিকে খালি বোতলটা দিয়ে দিল। তবে দেয়ার আগে তলানির পানিটুকু বোতল উপুড় করে দিল নিজের গলায়।

ছেলেটি বোতলটি হাতে নিল। আর লোকটি ভাবল, তোমাকে এই খালি বোতল ছাড়া আর কিছু দেয়ার নেই আমার। প

০২.৮.১৩, বরিশাল

প্রশান্ত মৃধা : কথাসাহিত্যিক

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.