Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ইসলাম / গল্প : অহংকারী এক কারুনের কথা

গল্প : অহংকারী এক কারুনের কথা

islamic pic-002ইকবাল কবীর মোহন : তোমরা হযরত মূসার (আ.) নাম শুনেছো নিশ্চয়ই। আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আ.) মিসরে জন্মগ্রহণ করেন। তখন মিসরের অবস্থা ভালো ছিল না। মিসরে বহুকাল থেকে অত্যাচারী শাসকের শাসন কায়েম ছিল। তারা জনগণের বন্ধু ছিল না। বরং তারা জনগণের ওপর জুলুম চালাতো। তারা ফিরাউন নামে পরিচিত ছিল। ফিরাউনের মধ্যে এক শাসক ছিল দ্বিতীয় রামেসিস। তার শাসনামলে মূসা (আ.) দুনিয়ায় আসেন। মূসা (আ.)-এর পিতার নাম ইমরান। আর মাতার নাম ইউকাবুদ। সে সময়ে মিসরে বনী ইসরাঈল নামে এক খ্যাতনামা বংশ ছিল। হযরত মূসা (আ.) এই বংশেই জন্মগ্রহণ করেন। বনী ইসরাঈল বংশে তখন কারুন নামে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। কারুন সম্পর্কে হযরত মূসা (আ.)-এর চাচাতো ভাই ছিল। কারুন বিশাল সম্পদের মালিক ছিল। কারুনকে নিয়ে রয়েছে মজার এক কাহিনী। আজ আমি তোমাদের কারুনের এই কাহিনীই শোনাব।
কারুন বলিষ্ঠ এক লোক ছিল। তখনকার মিসরে কারুন বেশ স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সে ছিল খুবই ধূর্ত এবং লোভী। তখন সমাজে বড় বড় সম্পদশালী বাস করতো। তাদের দেখে কারুনের মনেও বেশি ধন-সম্পদ পাবার তীব্র বাসনা জাগল। কারুন দেখল ফিরাউনের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলে সহজেই বড় হওয়া যায়। তাই সে ফিরাউনের দরবারে স্থান করে নিতে চেষ্টা-তদবির ও কৌশল গ্রহণ করল। অবশেষে সে সফলও হলো। দেখতে দেখতে কারুন রাষ্ট্রের সকল উন্নয়ন কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলল। ফিরাউনের দরবারে যত ঠিকাদারী কাজ হতো কারুন তার সবই বাগিয়ে নিত। এভাবে মোটা অঙ্কের কাজ পেয়ে কারুন অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে গেল। এতেও কারুনের লোভ মিটল না। সে যেসব মজুর দিয়ে কাজ করাত তাদের মজুরিতেও কারুন জোর করে ভাগ বসাত। ফলে, কারুনের ধন-সম্পদ বেড়ে পাহাড় পরিমাণ হয়ে গেল। তবে কারুন ছিল অত্যন্ত কৃপণ মানুষ। সম্পদ লাভ ছাড়া তার আর কোনো ভালো উদ্দেশ্য ছিল না। এসব সম্পদের কানাকড়িও কারুন কারো উপকারের জন্য ব্যয় করত না। কথিত আছে, কারুন তার সম্পদ নিরাপত্তার জন্য সিন্ধুকে তালাবদ্ধ করে রাখত। কারুনের সম্পদ ও সিন্দুকের পরিমাণ এতই বেশি হলো যে, এগুলোর চাবি বহন করার জন্য সত্তরজন বলিষ্ঠ মজুরের প্রয়োজন হতো।
কারুনের এই সম্পদ তাকে অহংকারী করে তুলল। সে ভাবতো তার অনেক যোগ্যতা আছে। আর এই যোগ্যতার বলেই কারুন বিশাল সম্পদ অর্জন করেছে। ধনী হওয়ার কারণে কারুনের আশপাশে অনেক ভক্ত ও চাটুকার ঘুর ঘুর করতো। তারা সব সময় কারুনের যোগ্যাতর প্রশংসা করতো। এতে সে আরো বেশি অহংকারী হয়ে উঠলো। কারুনের এই মনোভাব দেখে বনী ইসরাঈলীদের বিজ্ঞ ও ধার্মিক লোকরা তাকে উপদেশ দিত। তারা বলতো ধন-সম্পদ দেয়ার মালিক তো এক আল্লাহ। তিনি কাউকে কাউকে সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ দেখতে চান, সম্পদ পেয়ে তারা আল্লাহকে মানে, আর কারা আল্লাহকে ভুলে যায়। বিজ্ঞ লোকদের এসব কথা ও উপদেশকে কারুন মোটেও পাত্তা দিত না। এ সময় হযরত মূসা (আ.) বনী ইসরাঈলীদের কাছে অবতীর্ণ হলেন। তিনি সবাইকে সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করার অনুরোধ করতে লাগলেন। তিনি কারুনকেও সত্য ধর্ম গ্রহণ করার আহ্বান জানালেন এবং অহংকার না করার পরামর্শ দিলেন।
হযরত মূসা (আ.) কারুনকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তুমি ধনী হয়েছো তো ভালো কথা। তাই বলে গর্ব তো কিছু নেই। বরং এ জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আল্লা অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
মজার ব্যাপার হলো বনী ইসরাঈলীরা অনেকেই আল্লাহর আদেশ মেনে নিল। তারা হযরত মুসা (আ.)-এর আহ্বানে সাড়া দিল। তখন তারা তাদের সম্পদের ওপর জাকাত দিতো। কিন্তু কারুনকে যখন এ কথা বলা হলো, অভিশপ্ত কারুন জাকাত দিতে অস্বীকার করল। উল্টো সে বলল, ‘সম্পদ আমি আমার ত্যাগ, কুরবানি ও যোগ্যতার বলে অর্জন করেছি। কেউ আমাকে দয়া করে অর্থ সম্পদ দেয়নি। তাই এই সম্পদ থেকে জাকাত দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
কারুন এখানেই থেমে থাকেনি। সে তার সম্পদ রক্ষার জন্য নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহর করল। এভাবে সম্পদ নিয়ে দিনকে দিন কারুনের দাম্ভিকতা বেড়েই চলল। তার অহংকারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেল। কারুনের এই সীমাহীন অহংকার আল্লাহর পছন্দ হলো না। কারুনের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাবের নিদেশ এলো। আল্লাহর আদেশে একদিন হঠাৎ মাটি ধসে গেল। ফলে কারুন, তার সুরম্য অট্টালিকা ও সমস্ত ধনরাশি মাটির নিচে দেবে গেল।

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.