Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
প্রচ্ছদ / সাহিত্য / গল্প / গল্প : শীতের ভাফা পিঠা
গল্প : শীতের ভাফা পিঠা

গল্প : শীতের ভাফা পিঠা

SB-Pithaসাইদুল হাসান সাদ্দাম : উজ্জল ওয়ানে পড়ে। তার সাথে তাদের বাড়ির পাশের স্মৃতিও পড়ে। ওদের কেলাস সকালে বসে। এখন শীতকাল তাই ঘুম থেকে উঠতে না চাইলেও উজ্জলের মা তাকে ঘুম থেকে সকাল সকাল জাগিয়ে স্কুলে পাঠায়। ওর বাবা মানুষের ক্ষেতে কাজ করে। গতকালের পানিভাত খেয়ে স্কুলে প্রায়ই যেতে হয়। এখন শীতকালে উজ্জলের মা তার জন্য বিস্কুট-মুড়ি ঘরে রাখে। কেন যেন আজ স্মৃতি আসতে দেরি করছে। এদিকে স্কুলে যাওয়ার সময় হয়ে যাচ্ছে। উজ্জল পরে স্মৃতিদের বাড়ি গেল। গিয়ে দেখে স্মৃতি বসে বসে পিঠা খাচ্ছে। গোল গোল পিঠার ওপর আখের গুড়, তার উপর নারকেল কুরিয়ে দেয়া। স্মৃতি যখন খাচ্ছিল উজ্জল ফেলফেলিয়ে চেয়েছিল। স্মৃতিকে পিঠা খেতে দেখে উজ্জলের জ্বিভে জল এসে গেল। কিন্তু সে খাওয়ার শেষের দিকে গেছে, ছোট মানুষ চেয়ে খাওয়ার মতো না। স্মৃতির পানি খাওয়ার পর উজ্জল-স্মৃতি স্কুলে চলে যায়। আজ উজ্জলের পড়ায় মন বসে না, স্মৃতি সকালে যে পিঠা খেল ওটাই বারবার তার চোখের সামনে এসে ভাসে। উজ্জল মিছিমিছি ঢোক গেলে যেন সে পিঠা খাচ্ছে। স্কুল ছুটির পর উজ্জল বাড়ি গিয়ে মার কাছে বলে সকালের কথা, মা আমি পিঠা খামু, পিঠা দেন। কি পিঠা খাবি বাবা? স্মৃতি আজ সকালে যে পিঠা খাইছে গোল গোল পিঠার উপরে মিঠি দেয়া, তার উপরে নারকেল দেয়া, মা আমি সেই পিঠা খাব। উজ্জলের মা শুনে বুঝতে পারেন ওই পিঠার নাম ভাফা পিঠা।
হ মা, আমি ভাফা পিঠাই খাব আমাকে এনে দাও।
কিন্তু বাবা আমি কইথে তুকে ভাফা পিঠা এনে দিমু। তাহলে আমাকে বানিয়ে দাও।
এগুলো তো বানাইতে চাইলের গুঁড়া লাগে, নাইরকেল লাগে, মিঠি লাগে- এগুলো তো ঘরে নাই। আইজ তোর আব্বা বাড়িত আইলে কমু সব কিন্না আনতে। তার পর তুরে বানাইয়া দিম খাইছ। কিন্তু উজ্জলের গর্জ সহে না তাই সে দৌড় দিয়ে ওদের গ্রামের উত্তর পাত্রে চলে যায় যেখানে তার বাবা ধান কাটতেছিল। আব্বা আব্বা আইজ বাজার থেকে নারকেল, মিঠি আর চালের গুঁড়া কিনে আনবেন মা ভাফা পিঠা বানাবো। একমাত্র ছেলের আকুতি গ্রহণ করে বাব বলে, ঠিক আছে বাবা মালিক টাকা দিলে বাজার থে কিন্না আনুম, তুই বাড়িত যা।
কিন্তু আজ মালিক যে টাকা দিছে তাতে চাল, ডাল আর কিছু সবজি কিনতে শেষ, ছেলের ভাফা পিঠা খাওয়ার জন্য টাকা নেই। কিন্তু উজ্জলের বাবার কষ্ট হচ্ছে ছেলের ভাফা পিঠা বানানোর জন্য নারকেল, মিঠি, চালের গুঁড়া না কিনতে পেরে। তবুও পকেটে যে টাকা ছিল তাতে এক কেজি চালের গুঁড়ি নিল। বাবাকে বাড়িতে আসতে দেখেই উজ্জল আনন্দে আত্মহারা আজ ভাফা পিঠা খাবে। কিন্তু তার মা শুধু চালের গুঁড়ি পেয়েছে তা দিয়ে খোলায় করে চিতল পিঠা বানাইতে পারে উজ্জলের মা তা-ই করলো। ঘরে থাকা চিনি দিয়ে উজ্জলকে ডাকে তার মা। উজ্জল তো মনে করেছে ভাফা পিঠা বানিয়ে মা ডাক দিছে। কিন্তু তার মা থালে করে দুইডা চিতল পিঠা আর চিনি দিল। সে তো কান্না শুরু করে দেয়, মা আমাকে ভাফা পিঠা দেও না কেন? এগুলা কি পিঠা দিছ?
তোর বাপের টেকা শেষ অইয়া গেছে, নাইরকেল, মিঠি আনতে পারে নাই চাইলের গুঁড়ি আনছে। চাইলের গুঁড়ি দিয়া চিতল পিঠা বানাইছি খা।
আমি খাইতাম না, স্মৃতিগো বাড়িতে ভাফা পিঠা বানাইছে, স্মৃতি আমার লগে পড়ে, স্মৃতি ভাফা পিঠা খায় আমি খাইতাম না। আমি তো একই কেলাসে পড়ি।
স্মৃতিগো বাবায় বড়লোক, অনেক টেকা আছে, তোর বাবার তো নাই।
এতো কতা কইতে অইবো না, আমি ভাফা পিঠা খামু
উজ্জলের মা রাগ করে তাকে মারতে থাকে,
ঘরে ভাত নাই ভাফা পিঠা খাইতে চায় ভাগ এনতে ভাগ বলে বলে।
উজ্জল কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায় চিতল পিঠা না খেয়েই। ঘুমের ঘোরে সে স্বপ্ন দেখে স্মৃতি ভাফা পিঠা খাচ্ছে তার সামনে বসে গভীর রাতে উজ্জলের ঘুম ভেঙে যায়, সে বলতে থাকে, মা আমাকে ভাফা পিঠা দেও আমি ভাফা পিঠা খামু। আবার ঘুমিয়ে যায় বলতে বলতে। যেতে যেতে শীত চলে যায় কিন্তু উজ্জলের ভাফা পিঠা খাওয়া হলো না। সে কল্পনা করে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে স্মৃতির সাথে বসে বসে ভাফা পিঠা খাচ্ছে। যখন তার কল্পনা শেষ হয় স্বপ্ন ভাঙে তখন কাঁদতে থাকে। মাকে ডাকে, মা আমাকে ভাফা পিঠা দেও আমি ভাফা পিঠা খাব।

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.