Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / প্রচ্ছদ / সন্ধ্যা হলেই অজানা আতঙ্ক
সন্ধ্যা হলেই অজানা আতঙ্ক

সন্ধ্যা হলেই অজানা আতঙ্ক

ছবি: ডেমোনিউজ ফাইল ফটো

ছবি: ডেমোনিউজ ফাইল ফটো

ঢাকা: সন্ধ্যা হলেই রাজধানীর কর্মজীবী মানুষদের ঘরে ফেরার ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। তবে, সাম্প্রতিক সময়ের ঘন ঘন হরতাল-অবরোধের কারণে এমনিতেই রাস্তায় যানচলাচল কম থাকে, যা-ও চলে সেসবেও বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগে একটি চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমার আঘাতে ১৯ যাত্রী দগ্ধ হওয়ার খবরে এখন সন্ধ্যার পরই লোকজনের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর সেই আতঙ্ক থেকেই অফিস থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে লোকজনের তাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় মতিঝিলে বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানের কর্মরত আশরাফুল আলম উত্তরায় বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে।

আশরাফুল বাংলানিউজকে বলেন, সন্ধ্যার পর বাসা থেকে তাকে কয়েকবার ফোন করা হয়েছে। কেমন আছি আর কতক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিরবো এসব বারবার জানার আকুলতা স্বজনদের। তিনি বলেন, শাহবাগের ঘটনার পর আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। বেসরকারি চাকরি করি। কাজ শেষ হয় সন্ধ্যার পর। নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবো কি না এ নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কে থাকি।

তিনি বলেন, চাকরি রক্ষার্থে চলাচল করতে হচ্ছে। নইলে যা অবস্থা বাসা থেকে বেরই হতাম না।

আশরাফুলের মতো আরেক চাকরিজীবী সোহেল মাহবুব বাংলানিউজকে বলেন, সারাদিনে এই এলাকায় যেভাবে পুলিশ থাকে সন্ধ্যার পর তা কমে যায়। কে যে কখন কোথা থেকে কাকে ককটেল মারে তাতো আর বলা যায় না। এ কারণে আমাদের আতঙ্কের মধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাসা থেকে জীবনটুকু হাতে নিয়ে বের হতে হয়, অফিসে না ঢোকা পর্যন্ত বাসা থেকে কয়েকবার ফোন করে। আর এই যে এখনো ফিরতে পারিনি, এজন্য কয়েকবার ফোন করা হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যতক্ষণ না বাসায় পৌঁছতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত অজানা আতঙ্ক তাড়া করে ফেরে।

এহসানুল নামের একজন বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশ না থাকা অবস্থায় ককটেল বোমা মারে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যার পর যখন পুলিশ থাকে না তখনই তারা এই ঘটনাগুলো ঘটায়। আর আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারাই দুর্বৃত্তদের নির্মম রাজনীতির বলি হই।

তিনি বলেন, দ্রুত এই অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে সবাইকে অপ-রাজনীতির নির্মম শিকার হতে হবে।

আশরাফুল সোহেল ও এহসানুলের মত যারা কর্মজীবী তারা সবাই এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দুর্বৃত্তরা যাত্রীবাহী বাসকে লক্ষ্য করে আগুন, পেট্রোল বোমা ছোড়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরতে মানুষের চোখেমুখে লক্ষ্য করা যাচ্ছে আতংকের ছাপ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগের শিশু পার্ক এলাকায় বিহঙ্গ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটিতে আগুন ধরে গেলে ১৯ যাত্রী মারাত্মক দগ্ধ হন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাহিদ ও রবিন নামের দু’জন। এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছেন আরো ১৭ জন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১৩

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.