Gmail! | Yahoo! | Facbook | Bangla Font
শিরোনাম
প্রচ্ছদ / প্রচ্ছদ / এক ছবিতে হাজার ছবি
এক ছবিতে হাজার ছবি

এক ছবিতে হাজার ছবি

ফারজানা ছবি / ছবি: নূর- ডেমোটোয়েন্টিফোর.কম

ফারজানা ছবি / ছবি: নূর- ডেমোটোয়েন্টিফোর.কম

নাম তার ফারজানা ছবি। টিভি পর্দার এই জনপ্রিয় মুখ অসংখ্য নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করে অনেক আগেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তবে মিডিয়াতে তার কাজের শুরু নাচের মাধ্যমে। আর এই নাচের সূত্রেই প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে পরিচয়। এরপর শুরু হয় তার অভিনয় জীবন।

সম্প্রতি বাংলানিউজে মা আয়েশা রহমানসহ হাজির হয়েছিলেন তিনি। আগেই জানতেন আজ তার ফটোসেশন হবে। তাই পরিপাটি করে সেজে একদম প্রস্তুত হয়ে এসেছেন। সাথে বেশ কিছু পোশাক। গল্পের শুরুতেই বললাম, বাহ! আপনি তো একদম প্রস্তুত। বললেন, `হ্যাঁ, আমি আমার কাজের বিষয়ে ভীষণ মনোযোগী। বলতে গেলে কাজপাগল মানুষ। তাই প্রস্তুত হয়েই এসেছি।’binodon1.1

কথাটা শুনে ভালোই লাগল। ভাবলাম- সব শিল্পীরা যদি এরকম কাজের বিষয়ে সৎ ও নিষ্ঠাবান হতেন, তাহলে মনে হয় সবার কাজগুলো সহজ হত। ছবির অভিনয় জীবনের পথ অনেক লম্বা। তারমুখেই জানতে চাইলাম প্রথম সময়ের অভিনয় জীবনের কথা।

ছবি এ বিষয়ে বাংলানিউজকে বললেন, ‘লিও তলস্তয়ের গল্প অবলম্বনে ‘চিঠি’ নাটকের প্রধান চরিত্র পদ্মের মাধ্যমে আমার ছোটপর্দায় আগমন। আর এ নাটকে সুযোগ হয় প্রয়াত আবদুল্লাহ আল মামুনের সাথে কাজের। তিনি নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন।’

এরপর অভিনয় করেছেন বেশকিছু জনপ্রিয় নাটকে। এর মধ্যে রয়েছে আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘সাত নম্বর বাড়ি’, সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় ‘দূর পাহাড়ের বাতাসেরা’, মান্নান হীরার পরিচালনায় ‘জবাকুসুম’, হাসান শিকদারের পরিচালনায় ‘পয়মন্ত’, রাজু খানের পরিচালনায় ‘মা’, মাইনুল হোসেন খোকনের পরিচালনায় ‘জীবন সংসার’, মাতিয়া বানু শুকুর পরিচালনায় ‘সীমানা পেরিয়ে’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য নাটকে।

তবে সম্প্রতি প্রচারিত ‘সীমানা পেরিয়ে’ নাটকে শিউলী সাথী ও ‘পয়মন্ত’ ধারাবাহিকের কুঞ্জ বেদেনী চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। এ বিষয়ে বললেন, ‘যে কোনো চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়। ‘সীমানা পেরিয়ে’ নাটকের শিউলী সাথি একটি বাস্তব চরিত্র। চরিত্রটি বোঝার জন্য আমি একটি অটিস্টিক শিশুর সঙ্গেও থেকেছি।

অন্যদিকে, ‘পয়মন্ত’ ধারাবাহিকের কুঞ্জ বেদেনী যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত পাড়া-গাঁয়ের এক বেদেনী। এ ধরণের চরিত্র সচরাচর আমাদের চোখে পড়ে না। এ চরিত্র রূপায়ণে প্রথমে আমি বেদে সম্প্রদায়ের আচার-আচরণ সম্পর্কে জেনেছি। আমার অভিনয় সত্ত্বার ভেতরে এই দুই চরিত্র বেড়ে উঠেছে বাস্তব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

এবার অন্য প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ‘অভিনয়শিল্পীরা তারার জগতের মানুষ, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের মানুষ।’ এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত? এমন প্রশ্নের জবাবে ছবি বলেন, ‘এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত বা দ্বিমত প্রকাশের আগে বলা দরকার গ্ল্যামার বলতে আমি কী বুঝি। একজন শিল্পপতির মেয়ের চরিত্রের গ্ল্যামার এবং একজন শ্রমজীবী মেয়ের চরিত্রের গ্ল্যামার কিন্তু এক নয়। অবস্থানগত কারণেই এই চরিত্র দুটি ভিন্ন ভিন্ন হবে।’

এরইমধ্যে ছবি একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। বিপ্লব হায়দার পরিচালিত এ ছবির নাম ‘জ্যোৎস্না  রাতের গল্প’। এই ছবিটি এ বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবার কথা রয়েছে।

‘একজীবনে হাজার জীবনের স্বাদ পেতে চাই।’ এ বিষয়টি আপনি অনেক সাক্ষাৎকারে বলেছেন।  একটু ব্যাখ্যা করবেন কি? উত্তরে বললেন, ‘একমাত্র অভিনয়ের মাধ্যমেই একজন মানুষ নিজেকে শত সহস্র জীবনের মধ্যে নিজেকে বিশ্লেষণ করতে পারে। আমরা যারা অভিনয়শিল্পী কাজের সুবাদে তারা প্রতিদিনই নিত্য-নতুন চরিত্র ও জীবনকে দেখার সুযোগ পাই এবং ওই জীবনকে ফ্রেমবন্দি করি। আমার মতে, এক মানুষের ভেতরে হাজার চরিত্র, হাজার মানুষের বাস শুধু অভিনয়ের মাধ্যমেই সম্ভব।’

অভিনেত্রী হিসেবে পর্দার ছবি ও ব্যক্তি ছবি এই দুই সত্ত্বাকে আলাদাভাবে দেখেন তিনি। তার মতে, এ দুই ছবির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কারণ, ব্যক্তি ছবি একজন একক মানুষ, একক সত্ত্বা। আর অভিনয়শিল্পী ছবি বিভিন্ন নাটকে একেকটি আলাদা চরিত্র।

তবে তার ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে অভিনীত চরিত্রের সত্ত্বাটি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, চরিত্রের সেই অদেখা মানুষটির গড়ন-গঠন ও অবয়ব মাঝেমধ্যে তিনি দেখতে পান।

একজন অভিনয়শিল্পী সব সময় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে গড়ে তুলতে, আবিষ্কার করতে পছন্দ করেন। ছবিও তাই চান। অভিনয়ের সাথে বেশ লম্বা সময় পার করেছেন এই অভিনেত্রী। তাই এবার তার কাছে জানতে চাইলাম-তার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের প্রধান সংকটগুলো কি কি?

ছবি বললেন, ‘অনেক সংকট আছে। তবে প্রধান সংকট হলো, বাজেট। মানসম্মত নাটকের জন্য বাজেট একটি বড় বিষয়। যার প্রভাব পড়ে নাটক এবং শিল্পীদের ওপরও। এছাড়া চটজলদি মনোভাবও আমাদের আরেকটি সংকট। এমনও হয়, একদিনে একটি নাটকের ১৬/১৭টা দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। ফলে এর পেছনেও দায়ী বাজেট এবং চটজলদি মনোভাব।’

১৩ আগস্ট সিংহ রাশির এই জাতিকার জন্মদিন। চট্টগ্রামে বড় হয়েছেন। বাবা এবি এম মোস্তাফিজুর রহমানকে ১৯৯৯ সালে হারিয়েছেন। পরিবারে সাত ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। এবার জানতে চাইলাম বিয়ে প্রসঙ্গে।

মিষ্টি হেসে জবাব দিলেন, ‘বিয়ে নিয়ে ভাবছি না। এটা আমার পরিবারের উপর ছেড়ে দিয়েছি।’

ছবি বর্তমানে ‘প্রজ্ঞা পারমিতা’, ‘জল ফড়িং-এর গান’, ‘জীবন সংসার’, ‘মন পুতুলের সঙযাত্রা’, ‘কাদামাটির মানুষেরা’, ‘ডিবি’, ‘দশ বছর পরে’, ‘রঙিন ফানুস’ ও ‘ওয়ারিশ’, ‘পাখী ও মানুষেরা’, ‘দিবা-নিশি’, ‘নাগর আলী কুমকুম’, ‘ঘাট-অঘাট’সহ আরো বেশকিছু ধারাবাহিকে কাজ করছেন।

এর বাইরে সম্প্রতি হাসান শিকদারের রচনা ও পরিচালনায় ‘পঞ্চনারী আখ্যান’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছেন। এছাড়া আলতাফ শাহনেওয়াজের রচনা ও অসীম গোমেজের পরিচালনায় ‘সময় সবুজ ডাইনি’, পংকজ ঘোষের পরিচালনায় ‘ডানা’, মাতিয়া বানু শুকুর রচনা ও রাজু খানের পরিচালনায় ‘বিনি সুতার মালা’, তরঙ্গ আনোয়ারের রচনা ও রাজু খানের পরিচালনায় ‘হাওয়াঘর ও মুহূর্তের স্পন্দন’ এবং অসীম গোমেজের পরিচালনায় টেলিছবি ‘মোহ মেঘের বৃষ্টি’ নিয়ে অচিরেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন।

অভিনয়ের বাইরে অচেনা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে ছবির। তবে তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে এই জগতকে নিয়ে বেশ চিন্তাও করেন। তিনি চান আমাদের দেশে অভিনয় নিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য কোনো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হোক।

ছবি বললেন, ‘দেখুন- আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও National School of drama (NSD) আছে, আছে পূনে ফ্লিম ইনিস্টিটিউট। আর আমাদের দেশে অভিনয় শেখার জন্য কোনো প্রাতাষ্ঠানিক ইনস্টিটিউট নেই। এখন আমাদের কাজের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য, তাই আমাদের দেশে ভালো স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভীষণ জরুরি।’

ছবি তার ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে তেমন কিছু ভাবেন না। কারণ, তার জীবনে পরিকল্পনা করে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। তাই তিনি বললেন, ‘ খুব বেশি পরিকল্পনা করে আমার জীবনে কিছু হয়নি। হতে পারে এটা আমার সীমাবদ্ধতা। কিন্তু এতে আমি মোটেই অখুশি নই।’

তবে ছবির স্বপ্ন আছে। গল্পনির্ভর নাটক, চলচ্চিত্র এবং যেসব চরিত্রের মধ্যে অভিনয়ের সুযোগ বেশি সেসব নাটক ও চরিত্রে বেশি করে অভিনয় করতে চান তিনি। আর ভালো চলচ্চিত্রে গুণী কোনো নির্মাতার অধীনে কাজ করা তার বড় স্বপ্ন। পর্দার এই অভিনয়শিল্পীর ছোট ও বড় পর্দায় আরো ভালো কিছু কাজ যোগ হোক-এমনই প্রত্যাশা রইল।

বাংলাদেশ সময় : ১৭৫৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১৩

মন্তব্য

Scroll To Top
Copy Protected by Chetans WP-Copyprotect.